বিমানবন্দরে স্বর্ণ ও মুদ্রা জব্দ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা এক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এ ঘটনায় ওই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের আগমনী এলাকার প্রবেশপথের পাশে খোলা পার্কিং জোনে সন্দেহজনক আচরণের কারণে ৪৩ বছর বয়সী মফিদুল ইসলামকে নজরদারিতে আনে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি খুলনা জেলার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক পর্যায়ে তার চলাফেরা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেলে তাকে অনুসরণ করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি সৌদি আরব থেকে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে নামার পর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহ সৃষ্টি হলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে এবং পরে তল্লাশির জন্য আটক করে।

পরবর্তীতে তাকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে নিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে তার শরীর ও ব্যাগ থেকে প্রায় ৪৯৯ দশমিক ১ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার মান প্রায় ২১ ক্যারেট বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮০ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি তার কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, মিসরীয় পাউন্ড এবং রোমানিয়ান লিউ রয়েছে। এছাড়াও তার কাছে কিছু বাংলাদেশি টাকাও পাওয়া যায়, যা নগদ অবস্থায় ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মূলত একজন গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করতেন, যিনি বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা স্বর্ণ গ্রহণ ও পরিবহন করতেন বলে স্বীকার করেন।

ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাচালান চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার জানান, বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রী চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জব্দকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়পরিমাণ
স্বর্ণালংকারপ্রায় ৪৯৯ দশমিক ১ গ্রাম
আনুমানিক মূল্যপ্রায় ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮০ টাকা
মার্কিন ডলার৯ হাজার
সৌদি রিয়াল৮ হাজার ৫০১
মিসরীয় পাউন্ড১ হাজার ৮০০
রোমানিয়ান লিউ১৫০
বাংলাদেশি টাকা৮০ হাজার ১১৭

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।