ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মের্সাস সোয়াদ ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব হওয়ার ঘটনা স্থানীয় সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিলিং স্টেশনের মালিক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাফেজ আজিজুল হককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।”
উল্লেখ্য, ঘটনার পর পুলিশ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলের বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ে। একই রাতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত
ঘটনাস্থল ও তদন্ত সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য নিম্নরূপ:
| তথ্যের ধরন | বিস্তারিত |
|---|---|
| ফিলিং স্টেশন | মের্সাস সোয়াদ ফিলিং স্টেশন, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ |
| পেট্রোলের পরিমাণ | প্রায় ৫০,০০০ লিটার |
| মালিক ও বিএনপি নেতা | হাফেজ আজিজুল হক |
| বহিষ্কারের আদেশ | বিএনপি, সকল পর্যায়ের পদ থেকে |
| গ্রেপ্তারকৃত | জলিল হোসেন রিফাত, ম্যানেজার |
| আইনগত ব্যবস্থা | ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী মামলা |
| ঘটনা সনাক্তকরণ | জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৭ এপ্রিল |
স্থানীয়রা বলছেন, ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশ এবং তেল সরবরাহের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না থাকায় এমন বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই ঘটনার পেছনের সকল দিক তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির নেতারা বলেন, “দলের নিয়ম অনুযায়ী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সদস্যকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।” অপরদিকে, স্থানীয় জনগণ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মোটামুটি ৫০ হাজার লিটার পেট্রোলের গায়েব হওয়া ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। প্রশাসন ও পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিয়মিত সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিলিং স্টেশনের মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমন্বয় স্থানীয় সংবাদ শিরোনামেও গুরুত্ব পেয়েছে।
