ঢাকার রাজনীতির ইতিহাসে মোহাম্মদ হানিফের নাম এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে প্রতিফলিত। তিনি ছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এমন একজন নেতা, যিনি ড্রয়িংরুমের রাজনীতি নয়, বরং রাজপথের রাজনীতি দিয়েই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। আজ ১ এপ্রিল, তার জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই মানুষটিকে, যিনি ঢাকার প্রথম ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে ইতিহাসে নিজস্ব অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।
Table of Contents
রাজনৈতিক জীবন ও ছাত্রাবস্থা
মোহাম্মদ হানিফের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ছাত্রাবস্থায়। তিনি ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতির পথ বেছে নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে শিখেছিলেন কিভাবে মানুষের কল্যাণ করতে হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে হয়।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে তিনি রাজপথে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির শিকার হলেও তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা ঢাকার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
মেয়র হিসেবে উল্লেখযোগ্য অবদান
১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফ বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। তার মেয়াদে ঢাকা শহর নতুন রূপ পায়। তার নেতৃত্বে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য কাজ হয়।
| উন্নয়ন ক্ষেত্র | অবদান ও কার্যক্রম |
|---|---|
| রাস্তাঘাট নির্মাণ | নগরের সড়ক জাল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ |
| ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন | বন্যা প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি |
| পরিচ্ছন্ন নগরী | সড়ক, নর্দমা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজ |
| জনসেবা | নগর ভবনের দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা রাখার নীতি |
নগর ভবনের দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা রাখার এই নীতি তাঁকে ঢাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
দলীয় নেতৃত্ব ও সাহসিকতা
মোহাম্মদ হানিফ শুধু একজন সফল মেয়রই ছিলেন না, তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কান্ডারি ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটে তার নেতৃত্ব দলের জন্য দিশারী হিসেবে কাজ করেছিল।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ গ্রেনেড হামলার সময় তিনি মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন। হামলায় শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার লাগার কারণে তার স্বাস্থ্যহানি ঘটে এবং ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উত্তরসূরি ও উত্তরাধিক
তার সুযোগ্য পুত্র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পরবর্তীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার সততা, সাহসিকতা ও জনসেবা মুল্যবোধ তিনি রাজনীতিতে অব্যাহত রেখেছেন।
মোহাম্মদ হানিফের প্রিয় উক্তি ছিল:
“আমি ঢাকার সন্তান, ঢাকাবাসীর সেবা করাই আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।”
উপসংহার
ঢাকা শহরের আধুনিকায়ন, নগর পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মোহাম্মদ হানিফের অবদান অনস্বীকার্য। তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও জনসেবার দৃষ্টান্ত আজও ঢাকাবাসীর মনে জীবন্ত। আজকের এই দিনে আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তার আদর্শকে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে গ্রহণ করি।
লেখক: এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট
