ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ২১ শিশু ভর্তি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সকলকে হাসপাতালে আলাদা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, “১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৬৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন, বাকি শিশুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ৮ তলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং শিশুরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পাচ্ছে।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন ভর্তি শিশুদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। হামে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ও শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখায়। দ্রুত চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ না করলে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি এবং হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

বিষয়সংখ্যা
মোট শিশু ভর্তি (১৭ মার্চ থেকে)১৪৩
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি শিশু২১
বর্তমানে চিকিৎসাধীন৬৪
মৃত শিশু
সুস্থ হয়ে বাড়ি পাঠানো শিশু৭৪
আইসোলেশন ওয়ার্ড শয্যা সংখ্যা৬৪

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। শিশুরা যদি হামের লক্ষণ দেখায়, তবে দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং চিকিৎসা করানো আবশ্যক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবহার সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শহর ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্সিং টিম রাখার মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত শিশুরা সঠিক চিকিৎসা পেলে বেশিরভাগই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন, শিশুদের শারীরিক অবস্থা মনিটর করা এবং যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এই উদ্যোগ শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।