ঝালকাঠিতে বাবার ফেসবুক লাইভে বিষপান ও শিশুদের আহত

ঝালকাঠি শহরের সুতালড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় রাকিব নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে নিজে বিষপান করেছেন এবং একই সঙ্গে দুই শিশু পুত্র, নিবীড় (৬) ও আবির (৪)–কেও বিষ খাইয়ে গুরুতর আহত করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে জানা যায়, রাকিব লাইভে এমন বক্তব্য দেন যা পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ফেসবুক লাইভে রাকিবের বক্তব্য

লাইভে রাকিব ‘সাগর’ নামে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“সাগর, তুই নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারলি। নিজে প্রতিষ্ঠিত হইলি। আমাদের তুই কোনো খোঁজ রাখনি। দুঃখে কষ্টে আমি চলে গেলাম। শান্তির পৃথিবীতে তুই একাই থাক, শান্তি করে দিলাম। আমরা সবাই চলে গেলাম।”

উদ্ধার ও চিকিৎসা

প্রতিবেশী ও রাকিবের চাচা জুয়েল জানিয়েছেন, মাগরিবের আগ মুহূর্তে রাকিবের ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা দ্রুত ছুটে যান। ঘরে পৌঁছে দেখা যায়, রাকিব ও তার দুই ছেলে ছটফট করছে এবং বিষের গন্ধে পরিবেশ ভারাক্রান্ত। তারা প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের অবস্থা

রাকিবের স্ত্রী ওই সময় বাসায় ছিলেন না। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, লাইভে উল্লেখিত ‘সাগর’ নামে কোনো ঘনিষ্ঠ পরিচিতি রাকিবের সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন।

পুলিশের পদক্ষেপ

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন,
“ঘটনার বিষয়টি আমাদের জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দাবি

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ‘সাগর’ নামের ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। তারা দাবি করেছেন, পরিবারের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আহতদের তথ্য

নামবয়সসম্পর্কচিকিৎসা অবস্থান
রাকিব৩৫বাবাবরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন
নিবীড়ছেলেবরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন
আবিরছেলেবরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন

এ ঘটনায় ঝালকাঠি শহরজুড়ে শোক ও বিস্ময়ের ছাপ পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের মানসিক এবং সামাজিক ক্রান্তিকাল প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে ঘটনার তদন্তে কার্যক্রম শুরু করেছে।