পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া বর্তমানে ইরানকে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে উন্মানিত বিমানযান (ড্রোন), খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য। বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্রগুলো জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষের যৌথ হামলার পরই রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে এই সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে মস্কো ধাপে ধাপে ড্রোন এবং মানবিক সহায়তা পাঠানো শুরু করে। আশা করা হচ্ছে, এই সরবরাহ কার্যক্রম মার্চ মাসের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ হবে।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা আরও জানাচ্ছেন, রাশিয়া শুধুমাত্র সামগ্রী পাঠাচ্ছে না, বরং ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যও সরবরাহ করছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি, নৌবাহিনী এবং কৌশলগত স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি এবং লক্ষ্যবস্তুর তথ্য। এই তথ্য ইরানকে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
ক্রেমলিন এই সংক্রান্ত মন্তব্যে সরাসরি অস্বীকার না করলেও জানিয়েছে, মস্কো এবং তেহরানের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চালু রয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন, “বহু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু আমাদের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।”
রাশিয়া ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্ক বহু বছর ধরে দৃঢ়। এই সম্পর্ক বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিস্তৃত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য হাজার হাজার “শাহেদ” লোইটারিং মিউনিশন সরবরাহ করেছে, এবং মস্কোও সমজাতীয় ড্রোন নিজ দেশে উৎপাদন শুরু করেছে।
রাশিয়ার সহায়তার ধরন ও বিবরণ
| সহায়তার ধরন | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| ড্রোন | ইরানের বিমান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উন্মানিত বিমানযান সরবরাহ। |
| খাদ্য সামগ্রী | নাগরিক ও সামরিক প্রয়োজনে মানবিক খাদ্য সরবরাহ। |
| চিকিৎসা সামগ্রী | ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো। |
| গোয়েন্দা তথ্য | যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক অবস্থান সম্পর্কিত স্যাটেলাইট ছবি ও লক্ষ্যবস্তুর তথ্য। |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই সহায়তা সম্পর্কের গভীরতা বাড়াচ্ছে। বিশেষত, সামরিক সহায়তার এই দিকটি রাশিয়ার কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে, যখন তার নিজস্ব সামরিক দায়বদ্ধতা ইউক্রেনে চলছে।
এই ধরণের সহযোগিতা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা আগামী সময়ে অঞ্চলের উত্তেজনা আরও তীব্র করতে পারে।
