বিচ্ছেদের ছায়ায় নতুন জীবন শুরু, সুস্মিতার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায় কিছু মাস আগেই নতুন জীবনের সূচনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাবেক স্বামীর বিকৃত যৌন অভ্যাস এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়োজিত আচরণ। এই বিষয়টি বিচ্ছেদের পর থেকে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছেন তিনি।

পরিচিতি ও কর্মজীবন

সুস্মিতা রায়কে দর্শক ‘জগদ্ধাত্রী’, ‘কৃষ্ণকলি’ এবং ‘অপরাজিতা অপু’ ধারাবাহিকে দেখা গেছে। সুন্দরবন থেকে টলিউডে পা রেখে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার খ্যাতির শীর্ষবিন্দুতে রয়েছে ‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিক। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং ও ব্যবসায়িক কাজ একাই পরিচালনা করছেন।

ধারাবাহিকের নামচরিত্রের ভূমিকাখ্যাতি স্তর
জগদ্ধাত্রীমুখ্য চরিত্রমাঝারি
কৃষ্ণকলিমুখ্য চরিত্রউচ্চ
অপরাজিতা অপুপ্রধান চরিত্রউচ্চ

জন্মদিনে বিচ্ছেদের ঘোষণা

২০২৫ সালের ২০ মার্চ সুস্মিতার জন্মদিনে জানা যায়, তিনি এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, কিছু বিষয় মিলেছে না এবং দু’পক্ষের মন খারাপ থাকায় তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সুস্মিতার দেবর, অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। আগেও একবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে তা মিটমাট হয়ে আবার একসঙ্গে ছিলেন।”

নতুন জীবন ও বিবাহ

বিচ্ছেদের পরই চলতি মাসে সুস্মিতা নতুন জীবন শুরু করেছেন। ১৮ মার্চ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিয়ের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “৩৬ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভণিতা করার সময় নেই। নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম… তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো।”

নতুন অভিযোগ ও প্রকাশ

সুস্মিতা অভিযোগ করেছেন, সাবেক স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও গোপন তথ্য ফাঁসের হুমকি দিচ্ছেন। লাইভে এসে তিনি অতীত সম্পর্ক ও নিজের একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, “বিয়ের সময়ও তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, টাকা ও অন্যান্য জিনিস নিয়েছিলেন। আমি ভালোবেসে সহ্য করেছি, কিন্তু সীমারেখা অতিক্রম হওয়ার পর বিচ্ছেদ একমাত্র উপায় ছিল।”

এ বিষয়ে সব্যসাচী চক্রবর্তীর বক্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “সুস্মিতার পাঁচ নম্বর বিয়ে। আমি ধৈর্য ধরে সব সহ্য করেছি। সম্পর্ক চলাকালে নানা সমস্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আর্থিক চাপের মধ্যেও তিনি নিজের স্বার্থে কাজ করেছেন। আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে এই পরিস্থিতিতে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের সমর্থক ও সমালোচকরা একাধিক মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ সুস্মিতাকে পুরোনো জীবন ভুলে নতুন সংসারে মন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ আবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনা বন্ধ করার অনুরোধ করেছেন।

সুস্মিতার এই অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় এখনও টলিউড ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ কাজ এবং সম্পর্কের ওপর এটি কোন প্রভাব ফেলবে, তা আগামী মাসগুলোতে স্পষ্ট হবে।