বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে এক কিশোর ট্রাকচাপায় প্রাণ হারিয়েছে। নিহত কিশোরের নাম উৎসব, বয়স ১৩ বছর। তিনি বুড়ইল ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামের বিকাশ চন্দ্রের ছেলে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থলটি হলো কদমকুড়ি-পেংহাজকি আঞ্চলিক সড়কের ধুন্দার বাজার এলাকা।
সূত্র জানায়, উৎসব সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পাশের বনকুড়ইল গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। পথ চলাকালীন ধুন্দার বাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক তার সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় উৎসব সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়। স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেন, পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তী কার্যক্রমে মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। নন্দীগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামস মোহাম্মদ জানান, “ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সড়কটি দিন দিন সরু ও যানবাহনের উচ্চগতির কারণে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে স্কুল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যবলি | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | উৎসব |
| বয়স | ১৩ বছর |
| গ্রাম | মাড়িয়া, বুড়ইল ইউনিয়ন |
| পিতার নাম | বিকাশ চন্দ্র |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ২২ মার্চ, দুপুর ১২.৩০ মিনিটের দিকে |
| দুর্ঘটনার স্থান | ধুন্দার বাজার, কদমকুড়ি-পেংহাজকি সড়ক, নন্দীগ্রাম |
| দুর্ঘটনার ধরন | ট্রাক চাপা |
| মৃতদেহের ময়নাতদন্ত | শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| পুলিশ ব্যবস্থা | ট্রাক জব্দ, চালক গ্রেপ্তার, তদন্ত চলছে |
স্থানীয়রা মনে করছেন, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। এ ঘটনায় কিশোরের পরিবার গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা সবার কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে যে, ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুতগতির যানবাহনের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মোটপক্ষে, এই দুর্ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের জন্য একটি তীব্র সতর্কতা, যাতে ভবিষ্যতে শিশুদের জীবন রক্ষা করা যায়।
