লালবাগে স্কুলছাত্রের গলায় ফাঁসের ঘটনা

রাজধানীর লালবাগ পোস্তা এলাকায় এক স্কুলছাত্র ফারহান রহমান জিহাদ (১৭) নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহী মসজিদের পাশের চারতলা একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর জিহাদকে তার স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং লালবাগ থানা পুলিশ এই ঘটনা তদন্ত করছে।

জিহাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সে তার পরিবারসহ বাসায় ভাড়া থাকতো। তার ভাই ফাহিম রহমান রুদ্র জানান, জিহাদ ইসলামবাগ আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবার নাম ফজলুর রহমান। তাদের পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলা।

পরিবার ও বন্ধুদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জিহাদের একই স্কুলের এক মেয়ে বন্ধু ছিল। রবিবার দুপুরে তারা একসঙ্গে ঘুরতে বের হয়। বিকেলের দিকে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যায় মোবাইলে ওই মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। মেয়েটি সম্পর্ক শেষ করার কথা জানালে জিহাদ অভিমানে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পরও দরজা খোলা না হলে পরিবার দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পান।

পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, জিহাদের আচরণগত কিছু সংকেতও লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যেমন অতিরিক্ত একাকীত্ব, মানসিক চাপ, এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে কম কথা বলা।

নিচের টেবিলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
নামফারহান রহমান জিহাদ
বয়স১৭ বছর
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানইসলামবাগ আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
শ্রেণিদশম
পরিবারদুই ভাই, এক বোন, বাবা ফজলুর রহমান
ঠিকানালালবাগ পোস্তা, ঢাকা (ভাড়া বাসা)
মূল ঘটনাগলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা
সম্ভাব্য কারণপ্রেমের সম্পর্কের বিরোধ, মানসিক চাপ
হাসপাতালঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
মৃত ঘোষণারাত সাড়ে ৮টা
পুলিশ তদন্তলালবাগ থানা

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, বন্ধু ও স্কুল কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা মানসিক চাপ, সম্পর্কজনিত সমস্যা এবং কিশোরদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপর সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পুলিশ এই ঘটনার পেছনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো বিষয় নেই বলে জানানো হয়েছে।

এই ধরনের কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক এবং সহানুভূতিশীল ভূমিকা নিতে হবে।