দুই এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি চালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা ও কুমারখালী উপজেলা শাখার দুই নেতাকে সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে নোটিশ প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস টনি নিশ্চিত করেন, কুষ্টিয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ইবাদত আলী ও কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে উত্তর জমা দিতে হবে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চাল বিক্রি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, নির্বাচনী সময়ে দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং হিসাব-নিকাশে অনিয়ম করার অভিযোগ।

হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুই টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। তা বিক্রি করে ৭১ হাজার টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার টাকায় শাড়ি-লুঙ্গি কেনা হয়েছে এবং ৫ হাজার টাকা দৌলতপুরে ইফতার পার্টিতে ব্যয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৭ হাজার টাকা জেলা শাখার নেতাকর্মীরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করেছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।” তিনি আরও বলেন, দলের কিছু অসাধু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে অপসারণের চেষ্টা করছে। শোকজের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।

জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, “বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ এসেছে। সঠিক হিসাব-নিকাশ ও সত্য উদঘাটনের জন্য শোকজ দেওয়া হয়েছে। হেলাল সাহেব প্রকল্পের প্রকৃত পিআইসি। শাড়ি-লুঙ্গি তিনি নিজ উদ্যোগে ক্রয় করেছেন। ৩৭ হাজার টাকা আমার কাছে নয়, উপস্থিতে জেলা শাখার নেতাকর্মীরা গ্রহণ করেছেন। আরও অনিয়ম আছে কি না, তার জবাব নেওয়া হবে।”

নিম্নে দুই নেতার আর্থিক লেনদেনের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো হলো:

নেতাবরাদ্দকৃত চালবিক্রয় মূল্য (টাকা)ব্যয়/বিতরণ (টাকা)অবশিষ্ট অর্থ (টাকা)মন্তব্য
হেলাল উদ্দিন২ টন৭১,০০০শাড়ি-লুঙ্গি: ২৯,০০০, ইফতার পার্টি: ৫,০০০৩৭,০০০জেলা নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ
ইবাদত আলী২ টনতথ্য অজানাতথ্য অজানাতথ্য অজানাশোকজ প্রাপ্ত

এটি এনসিপির জেলা শাখার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শোকজের জবাবের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার সাধারণ জনগণ ও দলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছে এবং সকল প্রমাণ যাচাই করা হবে।