লুক্সেমবুর্গে সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি (LSAP) সম্প্রতি একটি প্রস্তাবিত আইন সংসদে উপস্থাপন করেছে, যা গুরুতর রোগ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের বীমা ও মর্টগেজ ক্ষেত্রে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করবে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো “ভুলে যাওয়ার অধিকার” আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠা করা এবং সুস্থ ব্যক্তিদের অতীত রোগের কারণে আর আর্থিক বা সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে না দেওয়া।
বর্তমানে গুরুতর রোগ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ প্রিমিয়ামসহ বীমা করা বা মর্টগেজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। LSAP-এর সংসদীয় দলের নেতা Taina Bofferding বলেন, “এটি শুধুমাত্র আইনগত বিষয় নয়, বরং আমাদের সমাজের সংহতির প্রতিফলন। সুস্থ মানুষদের পুনর্বাসন ও সম্পূর্ণ জীবন যাপনের সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
বর্তমানে লুক্সেমবুর্গ ইনস্যুরেন্স অ্যান্ড রিইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (ACA) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি চুক্তি এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটি স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে এবং শুধুমাত্র মর্টগেজ ও পেমেন্ট প্রোটেকশন বীমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে সীমা রয়েছে €১ মিলিয়ন। নতুন প্রস্তাবিত আইন এই “ভুলে যাওয়ার অধিকার”কে অন্যান্য ঋণ ও বীমার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করবে।
LSAP সাংসদ Claude Haagen জানান, “যারা একবার রোগে ভুগেছেন এবং সুস্থ হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা ইতিহাসের কারণে আর দণ্ডিত করা উচিত নয়। চিকিৎসার অগ্রগতি রোগ নিরাময়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।” আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আচ্ছাদিত রোগের তালিকার সম্প্রসারণ। স্থির তালিকা নির্ধারণের পরিবর্তে, একটি ফলো-আপ কমিটি প্রতি ছয় মাসে তালিকাটি পর্যালোচনা ও আপডেট করবে। কমিটিতে থাকবেন বীমা খাতের প্রতিনিধি, জাতীয় স্বাস্থ্য নির্দেশিকা, ভোক্তা সংরক্ষণ সংস্থা ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
Bofferding এবং Haagen উভয়ই জানিয়েছেন, বিষয়টি পার্টিজান নয় এবং তারা আশা করেন যে এটি সংসদে সর্বদলীয় সমর্থন পাবে।
লুক্সেমবুর্গে গুরুতর রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা সঠিকভাবে জানা নেই। তবে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড ডাকশিপে বছরে প্রায় ৩,৪০০ নতুন রোগী ধরা পড়ে, এবং বর্তমানে আনুমানিক ১৮,০০০ মানুষ এই রোগে বেঁচে আছে।
অনুমানিত ক্যান্সার পরিসংখ্যান: লুক্সেমবুর্গ
| পরিসংখ্যান | সংখ্যা (প্রায়) |
|---|---|
| নতুন ক্যান্সার রোগী (বার্ষিক) | 3,400 |
| বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি | 18,000 |
| সুস্থ বা পুনরুদ্ধারকৃত রোগী সংখ্যা | অজানা |
LSAP আশা করছে, এই আইনের মাধ্যমে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা আর্থিক ও সামাজিক জীবনে তাদের অতীত রোগের কারণে বৈষম্যের শিকার হবেন না। এটি লুক্সেমবুর্গে সংহতি, সমানাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হবে।
এই আইন প্রবর্তিত হলে, লুক্সেমবুর্গ সুস্থ রোগীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল এবং সমৃদ্ধ সমাজ হিসেবে পরিচিত হবে, যেখানে চিকিৎসা ইতিহাস আর তাদের ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে না।
