লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও আদিতমারী ইউনিয়ন নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ভিজিএফ (ভিজিল্যান্স ও ফুড কার্ড) চালের “৩০ শতাংশ ভাগ” দাবির একটি ফাঁস হওয়া অডিওর কারণে। এই অডিওতে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এই ভাগ দাবি করতে শোনা গেছে।
অডিওর বিবরণ ও অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লবকে প্রশ্ন করছেন— “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?” উত্তরে চেয়ারম্যান জানান, তারা মিটিং করেছেন এবং ইউএনও প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে।
অডিওতে সবুজ আরও বলেন, “বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল, তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমাদের অতীত ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? ১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন। সবুজকে চেনা লাগবে না।”
ঘটনার পর মদাতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতেই তাকে তার বাড়ি থেকে আটক করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। স্ত্রীর অভিযোগ, এমপির থার্টি পার্সেন্ট ভিজিএফ চাল বরাদ্দের বিষয় নিয়ে মোবাইলে কথোপকথনের জেরেই এই গ্রেপ্তার।
প্রতিক্রিয়া ও বিবৃতি
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ কল রেকর্ডকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি আমার নয়। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছি।”
বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এমপির নামে ৩০ শতাংশ চাল চাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও অবগত, তারা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেছেন, “আমি বাইরে আছি, আপনি ওনার (সবুজ) সঙ্গে কথা বলেন,” বলে কলটি কেটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বলেন, “স্থানীয় এমপিকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করতে হয়। তবে সেখানে কোনো ‘৩০ শতাংশ কোটা’ দেওয়ার কথা নেই। অডিও ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি বিব্রতকর।”
বরাদ্দ ও প্রেক্ষাপট
ঈদুল ফিতরের জন্য কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২,৮৬৪টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মদাতি ইউনিয়নের বরাদ্দ ৩,৩৪৫টি কার্ড। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উপজেলা | কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট |
| ইউনিয়ন | মদাতি সহ ৮ টি ইউনিয়ন |
| ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ | ২২,৮৬৪টি |
| মদাতি ইউনিয়নের বরাদ্দ | ৩,৩৪৫টি |
| প্রতি কার্ডের চাল | ১০ কেজি |
| জড়িত ব্যক্তি | ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, শামসুজ্জামান সবুজ, বিধান চন্দ্র রায় |
| অভিযোগ | এমপি নামে ৩০% ভিজিএফ চালের ভাগ দাবি |
| আইনগত ব্যবস্থা | চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার, মামলা প্রক্রিয়াধীন |
