বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ আয়োজন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ রবিবার শেষ হচ্ছে। মাসব্যাপী এই বইমেলার সমাপনী দিনে মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সমাপনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৩টায়। অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এরপর ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর সার্বিক কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন মেলার সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। এই প্রতিবেদনে মেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থীর উপস্থিতি এবং বিক্রির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
অমর একুশে বইমেলা প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আয়োজিত এই মেলায় দেশের শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থাগুলো নতুন বই প্রকাশ করে এবং লেখক-পাঠকের সরাসরি মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো প্রাঙ্গণ। এবারের মেলাতেও নতুন বই প্রকাশ, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, শিশু-কিশোর আয়োজনসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিভিন্ন সাহিত্য ও প্রকাশনা-সংশ্লিষ্ট পুরস্কার প্রদান। বাংলা একাডেমি প্রতিবছরের মতো এবারও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করবে, যা লেখক, অনুবাদক, শিশুসাহিত্যিক ও প্রকাশকদের সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিচে এবারের মেলায় প্রদেয় প্রধান স্মৃতি পুরস্কারগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| পুরস্কারের নাম | ক্ষেত্র |
|---|---|
| চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার | প্রকাশনা ও বই প্রকাশনায় বিশেষ অবদান |
| মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার | সৃজনশীল সাহিত্য |
| রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার | শিশুসাহিত্য |
| সরদার জয়েন উদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার | অনুবাদ সাহিত্য |
| শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার | বইয়ের প্রচ্ছদ ও নকশা |
মেলা আয়োজকদের মতে, এবারের বইমেলায় পাঠকের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য এবং নতুন বই প্রকাশের সংখ্যাও সন্তোষজনক। তরুণ লেখক ও নতুন প্রকাশকদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান ও পুরস্কার প্রদান পর্বের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের অমর একুশে বইমেলা। তবে মেলা শেষ হলেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার এই উৎসব পাঠক ও লেখকের মনে নতুন অনুপ্রেরণা জাগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
