মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তার উপস্থিতি কেবল দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককেই নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনকেও প্রতিফলিত করেছে।

দূতাবাস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, যাতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়িত হয়। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় এবং ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে বিশেষ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতা স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নিয়মিত পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়ে আলোচনা হয়:

বিষয়বর্ণনা
ডিপ্লোমেটিক নিরাপত্তাস্পেশাল প্রোগ্রাম ফর অ্যাম্বাসি আজমেনটেশন অ্যান্ড রেসপন্স (এসপিইএআর) প্রয়োগ ও সমঝোতা স্বাক্ষর
অবৈধ অভিবাসনইলেকট্রোনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি) প্রোগ্রামের বাস্তবায়ন
সন্ত্রাস দমনবাংলাদেশ পুলিশের ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ, ২০১০ সাল থেকে চলমান সহায়তা
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাযৌথ উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমানা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দীর্ঘমেয়াদি মিত্র, বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা খাতে। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া, ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে এসপিইএআর প্রোগ্রামের দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০,০০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলিজনিত কারণে প্রশিক্ষণের ফলপ্রসূতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক গেলান, পলিটিক্যাল অফিসার সান স্যান্ডার্স, পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট টানিক মুনির ও পলিটিক্যাল অফিসার রিলে পালমারট্রি।

সভার শেষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন এবং উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।