ঘুষকাণ্ডে নারী ও ব্যবসায়ী আটক কুলাউড়া থানায় ঘটনা

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানায় প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারী ও এক ব্যবসায়ীকে আটক করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট রেঞ্জের উচ্চপর্যায়ের একটি দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ, যিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, এবং একই ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের মৃত তাহির আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার—এই দুজনকে নগদ অর্থসহ আটক করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, জেসমিন আক্তার তার প্রাক্তন স্বামী মাহতাব মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ, হয়রানি এবং চলমান আদালত সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি অতীতের কিছু গুরুতর ঘটনার সঙ্গেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সম্প্রতি মাহতাব মিয়ার বিদেশে যাওয়ার খবর পেয়ে তা আটকাতে তিনি থানায় উপস্থিত হন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঘটনার দিন থানায় সিলেট বিভাগের উপমহাপরিদর্শকের পরিদর্শন চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম চলাকালে জেসমিন আক্তার পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বামীর বিদেশ যাত্রা বন্ধে সহায়তা চান।

পরে অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ একটি খামে করে দুই লাখ টাকা নিয়ে আসেন। ওই টাকার মধ্যে থেকে এক লাখ ষাট হাজার টাকা কৌশলে সরিয়ে রেখে বাকি চল্লিশ হাজার টাকা পুলিশ সুপারের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দুজনকে আটক করা হয়।

ঘটনার পর কুলাউড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ঘুষ প্রদান ও প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

নামপরিচয়ঠিকানাঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা
মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদব্যবসায়ীভবানীপুর, রাউৎগাঁও ইউনিয়নঘুষ প্রদানের অর্থ বহন ও লেনদেনের চেষ্টা
জেসমিন আক্তারগৃহবধূআব্দুলপুর, রাউৎগাঁও ইউনিয়নঅভিযোগকারী ও সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, জেসমিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে প্রশাসনিক পরিদর্শনের সময় অর্থ প্রদানের এই চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা পড়ে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রকাশ্য পরিদর্শনের সময় এমন ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।