ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতীয় পক্ষ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রস্তাবটি যাচাই-বিবেচনা করছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই ভারত প্রথমে নিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার জানান, “বাংলাদেশের ডিজেল চাওয়ার অনুরোধটি আমরা পর্যালোচনা করছি। দেশের ডিজেলের প্রাপ্যতা ও পরিশোধন সক্ষমতা মূল্যায়ন করার পরই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ অন্যান্য দেশ থেকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের জন্য অনুরোধ এসেছে, সেগুলোকেও ভারত যাচাই করছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু জানান, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়া হয়েছে। গত বুধবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডিজেলের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ চাওয়া হয়েছে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।” বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে এবং বিষয়টি ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে একসময় প্রায় পুরো ডিজেলই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, বিশেষত কুয়েত থেকে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিপিসির আমদানি করা ডিজেলের ৯১ শতাংশ কুয়েত থেকে আসত। ভারতের অংশ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। তবে গত দুই দশকে আমদানির উৎসের বৈচিত্র্য বেড়েছে। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এবং ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে ডিজেল সরবরাহ করছে।
নিম্নে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি উৎসের সাম্প্রতিক চিত্র দেওয়া হলো:
| অর্থবছর/মাস | মোট আমদানি (লাখ টন) | প্রধান উৎস দেশ | অংশীদারি (%) | অন্যান্য প্রধান উৎস দেশ ও অংশ (%) |
|---|---|---|---|---|
| ২০০৬-০৭ | – | কুয়েত | 91% | ভারত 9% |
| ২০২৫ (জুলাই–ফেব্রুয়ারি) | ২৩ | সিঙ্গাপুর | 41% | মালয়েশিয়া 24%, অন্যান্য দেশ 35% |
এ তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অনেক কমিয়েছে। ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকেও জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উন্মুক্ত থাকায় আপৎকালীন পরিস্থিতিতেও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়বে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
