গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ৯০ হাজার টাকার জাল নোট জমা দেওয়ার চেষ্টা করার সময় আব্দুর রহিম ফকির নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সদরের পূবালী ব্যাংকের মুকসুদপুর শাখা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যাংকিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সতর্কতা ও সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আটক আব্দুর রহিম ফকির মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একই গ্রামের মো. খোকন ফকিরের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাল নোটের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আব্দুর রহিম ফকির পূবালী ব্যাংকের মুকসুদপুর শাখায় এসে এক হাজার টাকার ৯০টি নোট একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নোটগুলো পরীক্ষা করার সময় কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। নোটগুলোর কাগজের গঠন, রঙের পার্থক্য এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে অসামঞ্জস্য থাকায় তার সন্দেহ হয়।
পরবর্তীতে তিনি নোটগুলো আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে সেগুলো জাল। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপককে অবহিত করা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তখন কৌশলে আব্দুর রহিম ফকিরকে ব্যাংকের ভেতরেই আটকে রাখেন এবং দ্রুত মুকসুদপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় বা বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনাটির প্রাথমিক তথ্য নিম্নে সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আটক ব্যক্তির নাম | আব্দুর রহিম ফকির |
| পিতার নাম | মো. খোকন ফকির |
| ঠিকানা | গোবিন্দপুর গ্রাম, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ |
| উদ্ধার জাল নোট | ১,০০০ টাকার ৯০টি |
| মোট পরিমাণ | ৯০,০০০ টাকা |
| আটক স্থান | পূবালী ব্যাংক, মুকসুদপুর শাখা |
| আটক তারিখ | ১২ মার্চ |
| আটককারী সংস্থা | মুকসুদপুর থানা পুলিশ |
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জাল নোট সংক্রান্ত অপরাধ দেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর শুক্রবার (১৩ মার্চ) আব্দুর রহিম ফকিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। পাশাপাশি জাল নোটের উৎস এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, সাধারণ মানুষকে জাল নোট সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে দ্রুত নিকটস্থ ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোই নিরাপদ পদক্ষেপ।
