ইউরোপের শ্রেষ্ঠ ক্লাব প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী উপহার দিল স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে, যিনি অসাধারণ দক্ষতায় নিজের পেশাদার জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। প্রথমার্ধেই তিনটি গোল করে তিনি কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।
ম্যাচের আগে রিয়াল শিবিরে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ তারকা চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে মাঠে নেমে সেই উদ্বেগ দ্রুতই দূর করে দেয় রিয়াল। বিশেষ করে ভালভার্দের গতিময়তা, নিখুঁত ফিনিশিং এবং আক্রমণ গঠনে তার সক্রিয়তা দলকে এগিয়ে দেয়।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে প্রথম গোলটি আসে ভালভার্দের পা থেকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দ্রুতগতিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা বল থামাতে এগিয়ে এলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ভালভার্দে সহজেই বল ফাঁকা জালে পাঠান।
এর সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পা ঘেঁষে বল চলে আসে ভালভার্দের কাছে। দ্রুতগতিতে ডি-বক্সে ঢুকে তিনি শক্ত ও নিখুঁত কোনাকুনি শটে আবারও গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪২তম মিনিটে তৃতীয় গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই উরুগুইয়ান তারকা। ব্রাহিম দিয়াজের ভাসানো পাস পেয়ে ডি-বক্সে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দেন এবং ঠান্ডা মাথায় ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন। দীর্ঘ সময়ের পেশাদার ক্যারিয়ারে এটাই ছিল তার প্রথম হ্যাটট্রিক। এর আগে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় ৭৫ ম্যাচ খেলে তিনি মাত্র তিনটি গোল করেছিলেন; কিন্তু এক ম্যাচেই সমানসংখ্যক গোল করে অনন্য কীর্তি গড়লেন।
যদিও ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তারা দীর্ঘ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও রিয়ালের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। অপরদিকে রিয়াল সীমিত সুযোগকেও নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে।
নিচের সারণিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| পরিসংখ্যান | রিয়াল মাদ্রিদ | ম্যানচেস্টার সিটি |
|---|---|---|
| গোল | ৩ | ০ |
| বল দখল | ৪২ শতাংশ | ৫৮ শতাংশ |
| মোট শট | ১১ | ৯ |
| লক্ষ্যে শট | ৭ | ৫ |
বিরতির পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াজের একটি শক্তিশালী শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ৫৬তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন দোন্নারুমা।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটিও কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬৭তম মিনিটে আর্লিং হালান্ড প্রায় নিশ্চিত গোলের সামনে বল পেলেও রিয়ালের ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারের অসাধারণ স্লাইড সেই সুযোগ নষ্ট করে দেয়। শেষদিকে নিকো ও’রাইলিও একটি শট নিয়েছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তা প্রতিহত করেন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩–০ ব্যবধানের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে দ্বিতীয় লেগে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচের আগে স্প্যানিশ ক্লাবটি স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের দ্বিতীয় লেগের লড়াই।
