হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় হত্যা মামলার আসামি রাসেল মিয়া (২৬) মঙ্গলবার সকালে কারাগারে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের আতিক মিয়ার ছেলে। ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রাসেল হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারাগারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েকদিন ধরে রাসেল জ্বরে ভুগছিলেন। বন্দি থাকা অবস্থায় তাকে কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ তিনি গোসলখানায় পড়েন। দ্রুত সেখানে উপস্থিত কারাগারের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলা মো. বিল্লাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাসেল মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
নিহতের হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেক্ষাপট একটি আগের ঘটনা। গত বছরের ৭ নভেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও নতুন জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর স্থানীয় এমরুল মিয়া ছুরিকাঘাতের শিকার হন। আহত অবস্থায় তিনি সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মারা যান। এ ঘটনায় রাসেল মিয়া সহ মোট সাতজনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত বন্দির নাম | রাসেল মিয়া |
| বয়স | ২৬ বছর |
| গ্রামের নাম | বনগাঁও, আউশকান্দি, নবীগঞ্জ |
| বাবার নাম | আতিক মিয়া |
| মামলার বিষয় | হত্যা মামলার আসামি |
| কারাগারে বন্দি থাকা শুরু | ৫ জানুয়ারি ২০২৬ |
| মৃত্যু সময় | ১১ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯টার আগে |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | হবিগঞ্জ জেলা কারাগার হাসপাতাল, পরে সদর হাসপাতাল |
| মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ | হৃদরোগ অনুমান |
| সম্পর্কিত ঘটনা | এমরুল মিয়ার ছুরিকাঘাত ও মৃত্যুর মামলা |
| আসামির সংখ্যা | ৭ জন |
স্থানীয় প্রশাসন এবং কারাগার কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন। জেলা প্রশাসন কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করা হচ্ছে যথাযথ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মোটকথা, নবীগঞ্জের এই হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, পরিবার ও জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
