দেশের বাজারে আবার কমেছে স্বর্ণের দাম

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বার স্বর্ণের মূল্যে হ্রাস ঘোষণা করেছে। শনিবার (১০ মার্চ) সকালে প্রকাশিত নতুন নির্ধারিত মূল্যে প্রতি ভর ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৭ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হ্রাস করা হয়েছে। স্বর্ণের নতুন দাম দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কার্যকর হবে এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে এই দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বাজারে স্বর্ণের দর নিয়মিত ওঠানামা করছে। গত দুই সপ্তাহে টানা ছয়বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুইবারের হ্রাস কিছুটা স্থিতিশীলতা এনেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৩৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৪ বার হ্রাস করা হয়েছে।

দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ নির্ধারিত হয়েছে—

স্বর্ণের প্রকারক্যারেটপ্রতি ভর মূল্য (টাকা)
তেজাবি (পিওর)২২২,৬৪,৯৪৮
২১ ক্যারেট২১২,৫২,৮৭৬
১৮ ক্যারেট১৮২,১৬,৭৭৫
সনাতন পদ্ধতি১,৭৬,৯৪৩

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, ডলারের মান এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি, স্থানীয় চাহিদা এবং জুয়েলারি শিল্পের সরবরাহ পরিস্থিতিও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বাজারের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বিশেষ করে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বড় পরিমাণে স্বর্ণ ক্রয় করলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও মুদ্রা স্থিতিশীলতা বিবেচনা করা আবশ্যক।

হ্রাস সত্ত্বেও, দেশের বাজারে স্বর্ণ এখনও মূল্যবান বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো নতুন উত্তেজনা বা মুদ্রার ওঠানামা স্থানীয় দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী সতর্কভাবে লেনদেন করতে হবে।

এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দাম পুনরায় ওঠানামা করবে। তাই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সদা প্রস্তুত থাকা জরুরি।