খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই মার্চ ২০২৬, ৭:৫৪ এএম

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিল্পোন্নত সাতটি দেশের শক্তিশালী জোট জি-৭ (G7) তাদের জরুরি কৌশলগত মজুত (Strategic Petroleum Reserve) বাজারে ছাড়ার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। সোমবার জোটের অর্থমন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হলেও এখনই মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হবে না। তবে জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারের অস্থিতিশীলতা রোধে তারা যেকোনো ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
সোমবারের বৈঠকটি মূলত গত রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় আহ্বান করা হয়েছিল। বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল—কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে জরুরি মজুত ব্যবহার করা হবে। জি-৭-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মজুত না ছাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য ছিল। বিষয়টি কোনো বিরোধের নয়, বরং ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষা এবং গভীরতর পর্যালোচনার বিষয়।
নিচে জি-৭ জোটের বর্তমান কর্মপরিকল্পনা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তথ্য দেওয়া হলো:
| সদস্য রাষ্ট্র | মূল ভূমিকা ও অবস্থান | পরবর্তী পদক্ষেপ |
| যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য | কৌশলগত মজুতের প্রধান উৎস। | সরবরাহ তদারকি বৃদ্ধি। |
| কানাডা ও ফ্রান্স | জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব। | মঙ্গলবার জ্বালানিমন্ত্রীদের টেলিকনফারেন্স। |
| জাপান ও ইতালি | আমদানি নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ। | পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ। |
| জার্মানি | বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন নিয়ে পর্যবেক্ষণ। | শীর্ষ নেতাদের চূড়ান্ত বৈঠক। |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জি-৭ দেশগুলো এখনই তাদের কৌশলগত মজুত শেষ করতে চাইছে না, কারণ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি থেকে যায়। সোমবারের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের পর মঙ্গলবার জোটের জ্বালানিমন্ত্রীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিকনফারেন্সে মিলিত হবেন। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জোটের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি পরিবহন ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে। জি-৭ দেশগুলো বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে; একদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা বাজারের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেলের মজুত ছেড়ে দেওয়া সহ সব ধরনের আইনি ও নীতিগত বিকল্প হাতে রেখেছি।”
পরিশেষে বলা যায়, জি-৭-এর এই সতর্ক অবস্থান মূলত বিশ্ববাজারে একটি শান্ত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তবে সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে জোটটি তাদের বিশাল মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।
মন্তব্য