বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে সোমবার (৯ মার্চ) ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলায় আহত সকলেই বাহরাইনের নাগরিক। আহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন; তার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া সবচেয়ে কম বয়সী আহত শিশু মাত্র দুই মাস বয়সী।
বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছেন, যাদের অবিলম্বে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। স্থানীয় বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইন সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ বলে অভিহিত করেছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। যদিও হামলার সম্পূর্ণ বিশদ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবু বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এটিকে সরাসরি ইরানি ড্রোন হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে নতুনভাবে সামরিক মেরুকরণ ও সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাহরাইনের সেনাবাহিনী রাজধানী এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং যেকোনো ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোয়েন্দারা হামলার সঠিক গতিপ্রকৃতি উদ্ঘাটনে কাজ করছেন। প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও ড্রোন কীভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ও প্রশাসন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করবে।
নিচে আহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আহতের সংখ্যা | ৩২ জন |
| গুরুতর আহত | ৪ জন |
| কম বয়সী শিশু | ২ মাস বয়সী |
| কিশোরীর বয়স | ১৭ বছর |
| হামলার ধরন | ইরানি ড্রোন আক্রমণ |
| অবকাঠামো ক্ষতি | ব্যাপক |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | স্থানীয় বিশেষায়িত হাসপাতাল |
