পুতিনের ইরান যুদ্ধ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন, ইরানে যেকোনো সহিংসতা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে।

শনিবার (৭ মার্চ) প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসদু পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে টেলিফোনালাপে কথা বলেন। এই ফোনকলে পুতিন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। পেজেশকিয়ান ফোনকলে যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।

ফোনালাপের পর ক্রেমলিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়,

“রাশিয়া জরুরিভিত্তিতে ইরানে যাবতীয় সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে বল প্রয়োগের কৌশল পরিত্যাগ করে রাজনীতি ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার ক্ষেত্রে রাশিয়া তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।”

এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরান এবং উপসাগরীয় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন।

ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন এপিক ফিউরি” এবং ইসরাইল “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

ইরান এই হামলার জবাবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের সেনাঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক প্রধান ঘটনাসমূহ সংক্ষেপে দেখানো হলো:

তারিখঘটনাদায়ী দেশ/দলকার্যক্রম ও লক্ষ্য
৬–২৭ ফেব্রুয়ারিইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সংলাপইরান ও যুক্তরাষ্ট্রপরমাণু বিষয়ক সমঝোতা আলোচনা
২৮ ফেব্রুয়ারি‘অপারেশন এপিক ফিউরি’যুক্তরাষ্ট্রইরানের সামরিক লক্ষ্য
২৮ ফেব্রুয়ারি‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ইসরাইলসামরিক অভিযান ও বিমান হামলা
মার্চইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাইরানইসরাইল ও মার্কিন সেনাঘাঁটিতে প্রতিহতি
মার্চরাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তারাশিয়াইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডে সহায়তা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত কমাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ অপরিহার্য। বিশেষ করে রাশিয়ার ভূমিকা ইরানের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শন করে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া, সাম্প্রতিক হামলার কারণে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এসেছে।