চট্টগ্রামে ছিনতাইচক্রের প্রধান গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে ছিনতাই ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের একটি শীর্ষচক্রের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শাহাব উদ্দিন শাবু (৩৪) এবং তার সহযোগী মো. পারভেজ (৩৭) চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার অভিযানটি শুক্রবার, ৬ মার্চ ভোরে পাঁচলাইশ থানার আরাকান সোসাইটি প্রবেশ গেট এলাকার কাছাকাছি পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান চক্রটির কার্যক্রমে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে শহরের অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।

ডিবির কর্মকর্তাদের মতে, শাহাব উদ্দিন শাবু চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার ভাই এর সহযোগী ও শহরের বিভিন্ন ছিনতাই, চুরি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ দ্রুত বিচার আইনে ছয়টি মামলা চলমান। মো. পারভেজও শাবুর দলের অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান বলেন,
“শাহাব উদ্দিন শাবু এবং তার সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ায় চট্টগ্রামের অপরাধ চক্রে বড় ধরনের ধাক্কা পড়েছে। আমরা অবশিষ্ট সদস্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি।”

বর্তমানে শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা, যিনি ২৭ মামলার আসামি, কারাগারে বন্দী রয়েছেন। পুলিশ আশা করছে, শাবু ও পারভেজের গ্রেপ্তারের ফলে ছিনতাইকারী দলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত কমবে।

নিচের টেবিলে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক তথ্য এবং মামলার সংখ্যা তুলে ধরা হলো:

নামবয়সঅবস্থানমামলা সংখ্যাসম্পর্ক
শাহাব উদ্দিন শাবু৩৪গ্রেপ্তারশহিদুল ইসলাম বুইশ্যার ভাই ও সহযোগী দলের নেতা
মো. পারভেজ৩৭গ্রেপ্তারশাবুর সহযোগী
শহিদুল ইসলাম বুইশ্যাপ্রায় ৪০কারাগার২৭শাবুর ভাই, সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের প্রধান

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মাধ্যমে ছিনতাইকারী দলের পরিকল্পনা, অস্ত্র ও মাদক সরবরাহ চক্রও উদঘাটন করা হয়েছে। ডিবি আরও জানিয়েছে যে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও ছিনতাই কমানোর কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযান শহরের নিরাপত্তা জোরদার এবং সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাস ও ছিনতাই থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। শীর্ষ চক্রের এই প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ডিবি শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করেছে।

শহরের সাধারণ মানুষও এই গ্রেপ্তার অভিযানের প্রশংসা করছে, কারণ এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।