কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। নিজ ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদ প্রকাশ বাদল (২২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরে অভিযুক্ত স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি (৩৬) তার স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। অভিযুক্ত আঁখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘টিকটক’-এ বেশ পরিচিত মুখ বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে ওই বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বুধবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শয়নকক্ষ থেকে বেলালের মৃতদেহ উদ্ধার করে। লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ধরন ও অভিযুক্তের পলায়ন
নিহত বেলাল উদ্দিন জিহাদ উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেমের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত তাহেরা বেগম আঁখি খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, মাস পাঁচেক আগে তারা এই বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে বেলালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী তার দুই সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বয়সের ব্যবধান এবং টিকটকে আঁখির অতি-সক্রিয়তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও তিক্ততা লেগে থাকত।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও প্রাথমিক তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | বেলাল উদ্দিন জিহাদ প্রকাশ বাদল (২২) |
| অভিযুক্তের নাম | তাহেরা বেগম আঁখি (৩৬), পেশায় টিকটকার। |
| ঘটনাস্থল | পূর্ব মেরংলোয়া, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন, রামু। |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | ৪ মার্চ, ২০২৬; দুপুর ১২:৩০ মিনিট। |
| হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য পদ্ধতি | বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ। |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরিত; অভিযুক্ত পলাতক। |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রামু এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে একজন টিকটকার স্ত্রীর দ্বারা বয়সে ছোট স্বামীকে হত্যার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, টিকটকে ভিডিও চিত্র নির্মাণ এবং পারিবারিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলো নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে অশান্তি চলত।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশে পচন ধরায় প্রকৃত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং তার সম্ভাব্য সব আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
সামাজিক অবক্ষয় ও অস্থিরতা
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতি-আসক্তি এবং বয়সের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিবাহের ক্ষেত্রে এমন মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক কলহ নিরসনে ধৈর্য ও আইনি সহায়তার পরিবর্তে সহিংস পথ বেছে নেওয়ার এই প্রবণতা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক অবক্ষয়ের লক্ষণ। বেলালের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।









