ইরানে খামেনি হত্যার পর সরকার শঙ্কায়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক; তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে খামেনির মৃত্যু শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে কি না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার আগে ও পরে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের পাশাপাশি শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়াও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। ট্রাম্প সাম্প্রতিক বার্তায় ইরানির জনগণকে আহ্বান করেছেন স্বাধীনতার জন্য রাস্তায় নামার।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ১৯৭৯ সাল থেকে চলা ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা এত সহজে ভেঙে যাবে না। হোয়াইট হাউসে জমা সিআইএ রিপোর্ট অনুযায়ী, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন নেতা বা অন্য কোনও ধর্মীয় নেতা। তবে আইআরজিসি কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ার সম্ভাবনা খুব কম।

ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

বিষয়বিস্তারিতবর্তমান পরিস্থিতি
সাময়িক শাসনপ্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য, বিচার বিভাগের প্রধান‘পরিচালনা পর্ষদ’ নেতৃত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ
নিরাপত্তা বাহিনীআইআরজিসি, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শক্তি ব্যবহার করতে পারে
জনগণের প্রতিক্রিয়াবিক্ষোভ, জনরোষগত জানুয়ারিতে আন্দোলন দমন, জনগণের মধ্যে সরকারের অপ্রিয়তা বৃদ্ধি
বৈদেশিক হস্তক্ষেপযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলহামলার পর জেবেল আলী বন্দর ধোঁয়ায়, স্কুল বোমা হামলা, ১৫০ জন নিহত

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সরকার গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে। আইআরজিসি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এখনো শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। রাষ্ট্র টেলিভিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালানো নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইসরায়েলের হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছে, অধিকাংশই শিশু। এছাড়া জেবেল আলী বন্দরে ধোঁয়ার সূত্রপাত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথান প্যানিকফ মন্তব্য করেছেন, “ইরানি জনগণ যদি রাস্তায় নামেন, সাফল্য নির্ভর করবে নিরাপত্তা বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মনোভাবের ওপর। তারা কি জনগণের পাশে দাঁড়াবে, নাকি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দেবে।”

মার্কিন কর্মকর্তাদের হতাশা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কোনও বিরোধী নেতা বাস্তবে ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ট্রাম্পের বার্তা ও হোয়াইট হাউসের অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান সরকারের পতন অতি-দ্রুত ঘটবে না।

ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈদেশিক হস্তক্ষেপের কারণে আরও জটিল। শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা ধরে রাখার সক্ষমতা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের মূল নির্ধারক হবে।