ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফার সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও বিকল্পের সম্ভাবনা

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আয়োজক দেশগুলো এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলো দ্বারা। তবে ইরানকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর, ইরানের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে গ্রুপ ‘এ’-র মাধ্যমে বিশ্বকাপ খেলার টিকিট অর্জন করেছিল ইরান। আগের কাতার বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল দেশটি। তবে চলমান সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখনো ফিফা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। সংস্থাটি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিশ্চিত করতে চাচ্ছে যে, বিশ্বকাপে সব দল নিরাপদভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

ফিফার বার্ষিক সাধারণ সভায় সংস্থার মহাসচিব ম্যাচিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেন, “আমি ইরান সম্পর্কে সংবাদটি আজ সকালে পড়েছি। বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় এখন নয়। আমরা বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করবে। আমরা আয়োজক তিন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাব।”

ইরান বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে আছে। তাদের প্রতিপক্ষ হলো বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা থাকলেও ইরানের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর ইরানের বিশ্বকাপ খেলা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং দলকে প্রস্তুত রাখা।”

বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিকল্প দলগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
ইরানের গ্রুপ‘জি’
প্রতিপক্ষ দলবেলজিয়াম, মিশর, নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ পর্বের ম্যাচের স্থলযুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বকাপ খেলার স্থিতিনিশ্চিত নয়
ফিফার পর্যবেক্ষণচলমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে
বিকল্প দলের সম্ভাবনাসংযুক্ত আরব আমিরাত (কোয়ালিফায়ার সরাসরি রানার্সআপ)
মহাসচিবের মন্তব্যনিরাপদ বিশ্বকাপ নিশ্চিতের জন্য পর্যবেক্ষণ চলছে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইরান অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে। কারণ ফিফা নিয়মে বলা আছে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে কোয়ালিফায়ার রাউন্ডের সরাসরি রানার্সআপকে সুযোগ দেওয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা, ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিবেচনা করে ফিফা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে ইরানের দল, কোচ ও ফুটবল কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফিফা নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।

ফলে, জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন কেবল খেলোয়াড় ও ফুটবল প্রেমীদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্যও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগৎ এখন প্রত্যেক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে, যা বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ আয়োজন নিশ্চিত করবে।