প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হয়েছেন সুজন মাহমুদ

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সুজাউদ্দৌল্লা, পরিচিত নাম সুজন মাহমুদ। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সুজন মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, তবে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে হবে। নিয়োগটি গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে প্রদান করা হবে এবং পদাধিকার তার যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি পর্যন্ত বহাল থাকবে, যা আগে ঘটে। এছাড়া, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সরকার এই নিয়োগ জনস্বার্থে জারি করেছে।

সুজন মাহমুদ বগুড়ার সন্তান। দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন ডিজিটাল অনলাইনের চিফ রিপোর্টার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে। তিনি ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

শিক্ষাজীবনে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে স্যার এ এফ রহমান হলে আবাসিক ছাত্র হিসেবে তাকে একপর্যায়ে পুলিশি নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়েছে। এক-এগারোর সরকার নামে পরিচিত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল এবং সর্বশেষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সুজন মাহমুদ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বিবরণগুলো টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
নিয়োগপ্রকৃতিচুক্তিভিত্তিক
পদপ্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব
বেতন স্কেলগ্রেড-৪, সর্বশেষ ধাপ
নিয়োগকালযোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা সন্তুষ্টি পর্যন্ত
পূর্ববর্তী পেশাচিফ রিপোর্টার, বাংলাভিশন ডিজিটাল
শিক্ষা ও রাজনীতির সূত্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রদল
উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডএক-এগারোর সরকার আমল ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
জন্মস্থানবগুড়া

সুজন মাহমুদকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া সরকারের প্রেস ও জনসংযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্য নিয়েই নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংবাদিকতার প্রগাঢ় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তাকে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে জনমত ব্যবস্থাপনা ও সংবাদ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই পদে নিযুক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য দক্ষ জনবল 확보 করেছেন, যা ভবিষ্যতে তথ্যপ্রচারের গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।