সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ দায়িত্বে এ পরিবর্তন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সাবেক অর্থসচিব হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সরকারি সেবা এবং অর্থনৈতিক প্রশাসনে অভিজ্ঞতার কারণে তাকে ব্যাংকের শীর্ষ পদে মনোনীত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের পর বর্তমান সরকারের পরিবর্তন এবং নতুন আর্থিক নীতি প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে ২৮ আগস্ট তাকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানায়, চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকার সময় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং উপযুক্ত সময় ও প্রক্রিয়ায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্বে এ পরিবর্তন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কর্মপদ্ধতি ও নীতি নির্ধারণে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চলবে।
নিম্নলিখিত টেবিলে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সোনালী ব্যাংকের কর্মকাণ্ড এবং জীবন সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী |
| পদত্যাগের কারণ | ব্যক্তিগত |
| পদত্যাগের তারিখ | ২ মার্চ, সোমবার |
| নিয়োগের তারিখ | ২৮ আগস্ট, ২০২৪ |
| দায়িত্বকাল | কয়েক মাস |
| পূর্ববর্তী দায়িত্ব | মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সাবেক অর্থসচিব |
| গুরুত্বপূর্ণ অবদান | সোনালী ব্যাংকের নীতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকি, আর্থিক খাতের অভিজ্ঞতা প্রয়োগ |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর্যন্ত ব্যাংকের তত্ত্বাবধান |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য নীতি নির্বিঘ্নভাবে চলবে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্বশীলভাবে তত্ত্বাবধান চালিয়ে যাবেন।
সর্বোপরি, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ায় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে সাময়িক সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর দীর্ঘ সরকারি সেবা, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে অভিজ্ঞতা এবং ব্যাংকিং খাতে তার ভূমিকা আগামীদিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও কার্যক্রমে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
