রাজধানীবাসীর সুপেয় পানির অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম লিটার প্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) থেকে এই নতুন বর্ধিত মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পানির এই মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত ও কার্যকর করার প্রক্রিয়া
ঢাকা ওয়াসার সচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসার ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’র ১৪তম সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বগতি, যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি এবং বুথগুলোর সামগ্রিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (Operation & Maintenance) ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। এর আগে পানির দাম প্রতি লিটার ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৮০ পয়সা ছিল, যা এখন বাড়িয়ে ১ টাকা (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিচে ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির মূল্যের ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও বর্তমান হারের একটি সারণি দেওয়া হলো:
| সময়কাল | প্রতি লিটার পানির দাম (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) | বৃদ্ধির হার (শতাংশ) |
| ১ আগস্ট ২০২৩-এর আগে | ৪০ পয়সা | – |
| ১ আগস্ট ২০২৩ থেকে ১ মার্চ ২০২৬ | ৮০ পয়সা | ১০০% |
| ২ মার্চ ২০২৬ থেকে বর্তমান | ১ টাকা | ২৫% |
কেন এই মূল্য বৃদ্ধি?
ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ঢাকা শহরে তিন শতাধিক এটিএম বুথ রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ লিটার পানি সংগ্রহ করেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে বস্তি এলাকা এবং যেসব এলাকায় সরাসরি সরবরাহ করা পানি পানের অযোগ্য, সেখানে এই বুথগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং কারিগরি জনবলের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কারণে পুরনো মূল্যে সেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কমিটির ১৪তম সভায় এটি স্পষ্ট করা হয় যে, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ১ টাকা লিটার নির্ধারণ না করলে ভবিষ্যতে সেবার মান ব্যাহত হতে পারে।
জনজীবনে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে পানির দাম বৃদ্ধিতে অনেক গ্রাহক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যারা নিয়মিত বড় জারে (২০-৩০ লিটার) পানি নেন, তাদের জন্য প্রতিদিনের খরচ একলাফে কয়েক টাকা বেড়ে গেল। স্বল্প আয়ের মানুষ যারা সরাসরি বুথ থেকে পানি পান করেন, তাদের জন্য এটি একটি বাড়তি বোঝা। বিশেষ করে ২০২৩ সালে যেখানে দাম একবারে দ্বিগুণ করা হয়েছিল (৪০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা), সেখানে তিন বছরের মাথায় আবারও দাম বাড়ানোকে সাধারণ গ্রাহকরা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
তবে ওয়াসার দাবি, বাজারের বোতলজাত পানির তুলনায় এটিএম বুথের পানি এখনও অনেক সাশ্রয়ী। বোতলজাত এক লিটার পানির দাম যেখানে ১৫-২০ টাকা, সেখানে ওয়াসা মাত্র ১ টাকায় মানসম্মত সুপেয় পানি দিচ্ছে। তবুও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পানির দাম স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।
