বিশ্বকাপ থেকে কার্যকর হবে ‘ভিনিসিয়ুস আইন’

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আগামীবারের বিশ্বকাপ থেকে নতুন এক নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ নামে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে বর্ণবাদী আচরণ রোধ এবং খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে কথোপকথন করার মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো।

নতুন নিয়ম প্রণয়নের পেছনে অন্যতম প্রভাবশালী ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে, যেখানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফে বেনফিকা-এর বিপক্ষে ম্যাচে এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগের তীর ছিল বেনফিকার তরুণ খেলোয়াড় জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি-এর দিকে। যদিও প্রেস্টিয়ানি ও তার ক্লাব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি এখনো ইউয়েফা-র তদন্তাধীন রয়েছে।

ঘটনার সময় প্রেস্টিয়ানি মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, ফলে অডিও বা ঠোঁট-পড়া বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে এড়াতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও আইএফএবি।

নতুন নিয়মের মূল বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:

বিষয়বর্ণনা
লক্ষ্যমাঠে বর্ণবাদ রোধ ও স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করা
কার্যকরী সময়আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে
নিষিদ্ধ আচরণমুখ ঢেকে, হাত বা জার্সি দিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলা
কর্তৃপক্ষফিফা ও ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)
প্রভাবখেলোয়াড়দের আচরণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বৃদ্ধি

আইএফএবির সর্বশেষ সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং পরিকল্পনা রয়েছে যে, এটি ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ-এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। ফুটবলের ইতিহাসে এটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন নিয়ম শুধু ম্যাচের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের নৈতিক মানও উন্নত করবে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ কার্যকর হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ণবাদ সংক্রান্ত বিতর্কের ক্ষেত্রে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অডিও বা ভিডিও প্রমাণের অভাব থাকলেও এই নিয়মের কারণে সঠিক রায় প্রদান সহজ হবে।

মাঠের বাইরেও এই সিদ্ধান্ত সামাজিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ—ফুটবলের মাধ্যমে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্বে সচেতনতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।