ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানা গেছে, প্রায় ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একই সঙ্গে আরও ৬০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বিভিন্ন তথ্যগত ত্রুটির কারণে আপাতত বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে, যা পরবর্তী শুনানির ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত বা বাতিল করা হবে।
নির্বাচন কমিশন প্রথমে প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখের বেশি ভোটারের তালিকা নিয়ে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করে। গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ৭ কোটি ৮ লাখ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তখনই প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনে। তবে এই সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার এখনো শুনানির আওতায় রয়েছে, যা তালিকাটিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
কলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল জানান, যেসব ভোটারের তথ্য অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে, তাঁদের নাম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। শুনানির মাধ্যমে যাচাই শেষে যোগ্য প্রমাণিত হলে তাঁদের নাম ধাপে ধাপে তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নতুন তালিকায় প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যা তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ পড়া এবং অনিশ্চয়তায় থাকা ভোটারদের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভবানীপুর কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সেখানে খসড়া তালিকায় প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ে এবং চূড়ান্ত তালিকায় আরও ২ হাজারের বেশি নাম বাদ যায়। বর্তমানে এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২০১ জনে। অপরদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী-এর কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচে ভোটার তালিকার পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| প্রাথমিক মোট ভোটার | ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ |
| খসড়া তালিকার ভোটার | ৭,০৮,১৬,৬৩০ |
| চূড়ান্ত তালিকার ভোটার | ৭,০৪,৫৯,২৮৪ |
| বাদ পড়া ভোটার | ৬৩,৬৬,৯৫২ |
| বিবেচনাধীন ভোটার | ৬০,০৬,৬৭৫ |
| নতুন ভোটার | ১,৮৮,৭০৭ |
বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখের বেশি সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের, যাদের অধিকাংশ বাস মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে। এই তথ্য রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং শাসক দলের মধ্যে হতাশার সঞ্চার করেছে।
আগামী এপ্রিল মাসে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে এই ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নির্বাচনী পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখন দেখার বিষয়।
