নরসিংদীতে সাবেক ইউপি সদস্যের রহস্যমৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আমির হোসেন (৪৫) নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ধরাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয়রা তাঁর লাশ নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাতে আমির হোসেন নৌকায় পার্শ্ববর্তী চরমধুয়া এলাকায় তাঁর পৈতৃক বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে অন্য নৌকায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

সলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক সুনীল চন্দ্র সূত্রধর জানিয়েছেন, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মাথায় চারটি কোপের চিহ্ন এবং দুই পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

নিহতের বড় ভাই বকুল মিয়া বলেন, “কারা তাঁকে হত্যা করেছে, আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।”

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে নদীতে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিচিত কয়েকজন নবীনগর থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”

নিহত আমির হোসেন বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার অথবা পূর্বশত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
নিহতের নামআমির হোসেন
বয়স৪৫ বছর
অবস্থানবাঁশগাড়ী ইউনিয়ন, রায়পুরা
হত্যার ধরণকুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা
লাশ উদ্ধার স্থলধরাভাঙ্গা, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাওসি রফিকুল ইসলাম
মামলা৫টি মামলা নিহতের বিরুদ্ধে
সম্ভাব্য কারণচরাঞ্চলের আধিপত্য / পূর্বশত্রুতা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার এলাকায় নিরাপত্তা বর্ধনের দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার চেয়েছেন। রায়পুরা ও নবীনগর থানার পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের ধরতে তদন্ত শুরু করেছে।

মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ, নদী পথে চলাচলরত মানুষের নিরাপত্তা এবং অপরাধী চক্রের দমন নিয়ে সরকারের তৎপরতা কাম্য বলে মনে করছেন তারা।