কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগে উদ্বেগ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, করপোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে নবনিযুক্ত গভর্নর কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

টিআইবি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ততা, ঋণখেলাপি ও ঋণ পুনঃতপশিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাছাড়া, তিনি তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন খাত এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে তার স্বতন্ত্রতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কতটা কার্যকর হবে, তা সন্দেহের আলোকে দেখা হচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা, যার মধ্যে অনেকেই ঋণগ্রস্ত। একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যিনি ঋণ পুনঃতপশিল ও খেলাপি ঋণের বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং যিনি ব্যবসায়ী লবির প্রভাবযুক্ত খাতে নীতি নির্ধারণে সুবিধাভোগী, তাকে গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়ার ঝুঁকি স্পষ্ট।”

টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, দেশের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া কতটা উপযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী অতীতে দলীয় স্বার্থ ও প্রভাবশালী মহলের কারণে ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছিল; খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা যখন জরুরি, তখন এই নিয়োগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নবনিযুক্ত গভর্নরের স্বাধীনতা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নরের প্রাসঙ্গিক তথ্য

বিষয়বিবরণমন্তব্য
নাম(নাম প্রকাশিত হয়নি)ব্যবসায়ী পটভূমি
পূর্ব অভিজ্ঞতাঋণ পুনঃতপশিল, ঋণখেলাপি ও ঋণগ্রস্ত প্রক্রিয়াব্যাংকিং খাতের সরাসরি কাজ
শিল্প ও খাততৈরি পোশাক, আবাসনপ্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির সঙ্গে যুক্ত
রাজনৈতিক সংযোগক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন কমিটির সদস্যস্বার্থের সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব
ইতিহাসপ্রথমবারের মতো ব্যবসায়ী গভর্নরজাতীয় ও আন্তর্জাতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ

উপসংহারে, টিআইবি মনে করছে, নবনিযুক্ত গভর্নরের স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা পরীক্ষার মুখে রয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রতি তার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, নতুন গভর্নর সরকার ও ব্যবসায়ী স্বার্থের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের আর্থিক খাতকে দৃঢ় ও স্বচ্ছ রাখবেন।

এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে নতুন গভর্নরের কার্যকারিতা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যত এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।