ভোলা সদর উপজেলায় গতকাল বুধবার সকালবেলা এক অদ্ভুত ঘটনায় গ্রামবাসী চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির মাকে অচেতন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিন মাস বয়সী শিশুটিকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে কথা বলে মূল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে কিছু জিনিস আনছিলেন। এই সময় বোরকা পরিহিত এক নারী তাঁর সামনে ২০০ টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দেন। সন্দেহ, ওই নোটে নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানো ছিল। নোটটি হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির মা অচেতন হয়ে পড়েন এবং ওই নারী কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা মাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৎক্ষণাৎ অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহিম জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি লঞ্চে শিশুটিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। পুলিশ টিম ঢাকা পৌঁছে সদরঘাট এলাকায় ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নারীসহ শিশুটিকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত নারীর তিন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে তিনি কোলের শিশুটিকে তাঁর এক স্বজনের কাছে দিয়েছেন। ওই স্বজনের মেয়ে নিঃসন্তান হওয়ায় শিশুটিকে নিতে আগ্রহী ছিলেন। পুলিশ মনে করছে, পুরো ঘটনা সাজানো হতে পারে, তবে তদন্ত এখনও চলছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানালেন, “ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”
ঘটনাস্থল ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) |
| স্থান | ভোলা সদর উপজেলা, ভোলা জেলা |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | ৩ মাস বয়সী শিশু ও তার মা |
| অভিযুক্ত | বোরকা পরিহিত নারী (তিন সন্তানের মা) |
| উদ্ধারকারী দল | ভোলা সদর পুলিশ ও ঢাকা পুলিশ টিম |
| উদ্ধার স্থান | সদরঘাট, ঢাকা, লঞ্চ ‘দোয়েল পাখি-১০’ |
| হাসপাতাল ভর্তি | ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল |
| তদন্ত অবস্থা | চলমান, মাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হয়েছে |
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, এটি কোনও দৈব ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত ও সম্ভবত পারিবারিক দ্বন্দ্বের প্রভাব থাকতে পারে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার ধারা এবং দায়ীদের সনাক্তকরণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
