সস্তা খাদ্যপণ্য সংগ্রহে মানুষের লড়াই

গতকাল রাজধানী এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পরিচালিত ট্রাকে বিতরণ করা মূলসুবিধাপূর্ণ খাদ্যপণ্যের জন্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল নাগরিকদের জন্য এই লাইন অপেক্ষা বাস্তব জীবনের এক কঠিন সংগ্রামের মতো মনে হয়।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিএটিসিএল অফিসের পাশে, লাইন ধরে অপেক্ষা করা রেহানা বেগম বলেন, “যারা ঠেলাঠেলি করতে পারে, তারা পণ্য পায়। আমি বয়সী; আমি এই ধাক্কাধাক্কিতে টিকে থাকতে পারি না।” তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষার পরও তিনি খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান। একইভাবে কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের সামনে মাহমুদ মিয়া বলেন, “আমি পাঁচ-ছয়জনের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু লাইন ভেঙে গেছে। এখন আমার সামনে ৫০–৬০ জন। পণ্য পাবো কিনা, তা কেবল ঈশ্বরই জানেন।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের কাছে সিরিয়াল নম্বর ৫৬ নিয়ে দাঁড়ানো জাহেদা বেগমও একই সমস্যা সম্মুখীন হন। তিনি জানান, কিছু ব্যক্তি একাধিকবার পণ্য ক্রয় ও লুকানোর চেষ্টা করছেন, যা লাইন অগ্রগতি আরও ধীর করে তুলছে।

লাইনের অবস্থান ও ক্রেতাদের ভিড়ের পরিস্থিতি সংক্ষেপে:

স্থানলাইন দৈর্ঘ্যবিশেষ সমস্যা
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ৬০–৭০ জন অতিরিক্তসয়াবিন তেল ঘাটতি
কারওয়ান বাজার৫০–৬০ জন অতিরিক্তলাইন ভেঙে যাওয়া
তেজগাঁও কলোনি মার্কেটমাঝারিসাধারণ ধাক্কাধাক্কি
প্রেসক্লাবদীর্ঘএকাধিক ক্রয় ও লুকানো
ইসিআই মাঠদীর্ঘভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্যা

রমজান উপলক্ষে টিসিবি দেশের নিম্ন আয়ের নাগরিকদের জন্য দৈনিক ৪৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য বিতরণ করছে। প্রতিটি ক্রেতা একটি ট্রাক থেকে সর্বাধিক নিম্নলিখিত পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে পারবেন:

পণ্যের নামপরিমাণট্রাক মূল্য (টাকা)বাজার মূল্য (টাকা)সাশ্রয় (টাকা)
সয়াবিন তেল২ লিটার২৩0৩৯0১৬0
মসুর ডাল২ কেজি৭0১৪0৭0
চিনি১ কেজি৮0১৩0৫০
ছোলা১ কেজি৬0১০0৪0
খেজুর০.৫ কেজি৮0১২০৪0
মোট৫৯0৯২০৩৩০

প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জন ক্রেতার জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকলেও লাইনে প্রায় দ্বিগুণ মানুষ উপস্থিত থাকে। সর্বোচ্চ চাহিদা সয়াবিন তেলের উপর, যা উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় প্রদান করে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ৬০–৭০ জন তেল ছাড়াই ফিরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু পণ্য অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, প্রমাণিত দোষীদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।

সিরাজগঞ্জে ইফতারের সময় বিক্রয় শুরু হলে ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বগুড়ার ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ভবিষ্যতে বিক্রয় সময়সূচি কঠোরভাবে পালন করা হবে।” চট্টগ্রামে দীর্ঘ লাইনের পরে ক্রেতারা ত্রাণমূলক পণ্য পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, “একাধিক ক্রয় রোধ করতে ক্রেতাদের আঙুলে অমোচনীয় কালিমা দাগানো হচ্ছে।”

এই পরিস্থিতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য সুবিধাভিত্তিক পণ্য সংগ্রহে চলমান সংগ্রামকে তুলে ধরে। বিশেষ করে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বলরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।