দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যাংকের সদর দপ্তরে এক দিনব্যাপী উত্তেজনার পর তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়, যা অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কল্যাণ পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, গভর্নরের ডাকা জরুরি বোর্ড বৈঠককে সমালোচনা করে। পরিষদের প্রতিনিধিদের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকটি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগের দিন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা সময়সাপেক্ষ এবং প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী ছিল।
বিশেষভাবে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সিংসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতি বিষয়ক আলোচনা। পরিষদের নেতারা বলেছিলেন যে বৈঠকটি সময়োপযোগী নয় এবং তা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সমঝোতার অভাবে নেওয়া হয়েছে। যদিও বৈঠকটি কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়, গভর্নর এবং ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
২৩ ফেব্রুয়ারি গভর্নর তিনজন পরিষদ নেতাকে শো-কজ নোটিশ জারি করেন, যা ১০ দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরের দিন ওই কর্মকর্তাদের রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরিত করা হয়। এই পদক্ষেপে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়, যাদের অনেকেই এটিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখেন।
পরবর্তী বুধবার সকালেই বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মীরা মটিজহিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে জমায়েত হন। তারা শো-কজ নোটিশ এবং স্থানান্তরের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গভর্নরের পদত্যাগও দাবি করেন। হুমকির মধ্যে ছিল সম্পূর্ণ কাজ বন্ধের সম্ভাবনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর তার কার্যক্রমের রক্ষা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, কিছু কর্মকর্তা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন, বিশেষত ব্যাংক একীকরণের বিষয়ে। তিনি সবাইকে প্রতিষ্ঠানের সেবা নীতির মধ্যে থাকতে বলেন এবং যে কোনো প্রোটোকল লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
কিছু ঘন্টার মধ্যেই জানা যায় যে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সুরক্ষার মধ্যে তিনি ব্যাংক ত্যাগ করেন। একই দিনে গভর্নরের একজন চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচজন কর্মকর্তার—including ব্যক্তিগত সচিব এবং নীতি সমন্বয়কারী পরিচালক—পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময়সূচি
| তারিখ | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | জরুরি বোর্ড বৈঠক প্রকাশ্যে সমালোচিত | বৈঠক আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | তিনজন পরিষদ নেতাকে শো-কজ নোটিশ | ১০ দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | তিন কর্মকর্তা রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর | কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি |
| বুধবার | সদর দপ্তরে প্রতিবাদ | গভর্নরের নিয়োগ বাতিল |
| একই দিন | পাঁচ কর্মকর্তার পুনর্বিন্যাস | প্রশাসনিক পুনর্গঠন শুরু |
অবজার্ভাররা এ ঘটনাকে প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানের ঐক্যের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বতন্ত্রতা, কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা এবং নীতি স্বচ্ছতা রক্ষা করা বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধারে অপরিহার্য।
দেশের রাজনৈতিক সংবেদনশীল মুহূর্তে এখন দৃষ্টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঐক্য পুনঃস্থাপন ও বাজারকে আশ্বস্ত করার সক্ষমতার দিকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন এবং সংযমী সিদ্ধান্তগ্রহণের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
