ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ রাস্তায় চলাফেরার এক বিরল দৃশ্য দেখা গেছে বুধবার। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর কারওয়ান বাজারের সিগনালে আটকে পড়েছে। এই ঘটনা জনজীবনে স্বাভাবিক প্রোটোকল ছাড়াই ভিভিআইপির চলাফেরার নতুন ধারাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
সকালবেলা গাড়িবহর যখন কারওয়ান বাজার এলাকায় পৌঁছায়, তখন সাধারণ যানজটের কারণে সিগনালে আটকে পড়ে। গাড়িবহরের পেছনে থাকা অন্যান্য যানবাহরও এক সময় স্থবির হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, “প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য গাড়িবহর সিগনালে আটকে থাকলেও পরে ট্রাফিক অফিসারের তৎপরতায় সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়া হয় এবং গাড়িবহর চলতে শুরু করে।”
এটি এমন এক সময়ের পরিবর্তনের প্রতিফলন, যখন ভিভিআইপিদের চলাচলের জন্য সাধারণ রাস্তাগুলো বন্ধ করা হতো, পথচারীদের ফুটপাথ দিয়ে চলাচরও সীমিত করা হতো। দুই বছর আগেও রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যেকোনো অফিসের গাড়িবহর দেখলে পুরো রাস্তাই যানবাহরের জন্য বন্ধ করা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন, “সড়ক বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, সাধারণ নিয়ম মেনে চলা উচিত।”
রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরও বিভিন্ন সময়ে যানজটে আটকে থাকতে দেখা গেছে। কিছু সময় তাদের ছবি তুলতেও লোকজনকে দেখা যায়। এবার রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরের সঙ্গে এই দৃশ্য মিলেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্যও স্বাভাবিক এবং সুবিধাজনক।
সিগনালে আটকে যাওয়ার ঘটনা থেকে সহজে বোঝা যায়, ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়াই রাজধানীর স্বাভাবিক যানজটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ভ্রমণ করা সম্ভব হচ্ছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ভিভিআইপি গাড়িবহরের চলাচলের কিছু নজির সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ভিভিআইপি ব্যক্তিত্ব | তারিখ | স্থান | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| মো. সাহাবুদ্দিন, রাষ্ট্রপতি | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | কারওয়ান বাজার | সিগনালে আটকে যান |
| তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী | ২০২৪ সালের জুলাই | ধানমণ্ডি রোড | যানজটে কিছুক্ষণের জন্য আটকা |
| মো. সাহাবুদ্দিন, রাষ্ট্রপতি | ২০২৫ সালের আগস্ট | বনানী এলাকা | সড়ক বন্ধ ছাড়াই চলাচল |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি নাগরিক সচেতনতার সঙ্গে ভিভিআইপিদের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও জনমুখী করে তুলবে। জনজীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারি প্রশাসনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।
