পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত কুকুর ও বিড়ালকে মানুষের প্রধান সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, কিছু অপ্রচলিত পোষা প্রাণীও সমানভাবে মানসিক সমর্থন প্রদান করতে পারে। কানাডার মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক সোণিয়া কং এই বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন। তিনি তার শিক্ষার্থীদেরকে শেখান কীভাবে পোষা প্রাণীর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় এবং এই সম্পর্কগুলো কিভাবে মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অধ্যাপক কং নিজেই একটি অপ্রচলিত পোষা প্রাণী রাখেন—একটি মুরগি। তিনি জানিয়েছেন, এই মুরগিটি তার দৈনন্দিন জীবনের চাপ মোকাবেলায় সহায়ক। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি মনে করি এটি অসাধারণ বুদ্ধিমান। এটি আমার অনুভূতি বুঝতে পারে।”
মুরগির বয়স এখন এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে এবং এর নাম ‘সাটারডে’। এটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিন্স জর্জের একটি খামার থেকে নেওয়া হয়েছিল। অধ্যাপক কং ব্যাখ্যা করেছেন, “যখন আমি দুঃখিত থাকি, এটি আমার পাশে বসে আমাকে পর্যবেক্ষণ করে। হয়তো এটি বুঝতে চাইছে আমি কী অনুভব করছি, এমনকি নীরবভাবে জিজ্ঞেস করছে কেন আমি দুঃখিত। এই সংযোগ আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।”
তিনি শহরে যাত্রার সময়ও সাটারডেকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেজন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা ডায়াপার ব্যবহার করা হয়, যা সুরক্ষা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।
অধ্যাপক কং শুধুমাত্র নিজের অভিজ্ঞতিতেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি উত্তর ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনলাইন সমীক্ষা পরিচালনা করছেন, যা কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে পোষা প্রাণীর প্রভাব নিরীক্ষণ করে। এই গবেষণা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ, যেখানে তিনি সহকারী অধ্যাপক ট্রেসি ওয়ং-এর সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় হংকং-এর সহযোগিতা করছেন।
পারিবারিক দিক থেকেও বিষয়টি বিনোদনমূলক। তার পরিবার এখনও অপ্রচলিত পোষা প্রাণীর ধারণার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে এবং হাস্যরসাত্মকভাবে জিজ্ঞেস করে, “আপনি কি মুরগিটি খেতে পরিকল্পনা করছেন?” অধ্যাপক কং এই মন্তব্যগুলোকে হালকাভাবে নেন, “আমি তাদের আশ্বস্ত করি, আমি কখনো তা করব না। এটি আমার পোষা প্রাণী। এটি কেবল সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং রসিকতার বিষয়।”
সাটারডে মুরগি – পোষা প্রাণী প্রোফাইল
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | সাটারডে |
| প্রজাতি | মুরগি |
| বয়স | ১১ মাস |
| উৎস | প্রিন্স জর্জ, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া খামার |
| উদ্দেশ্য | আবেগীয় সমর্থন ও সঙ্গীত্ব |
| বিশেষ যত্ন | শহরে যাওয়ার সময় বিশেষ ডায়াপার ব্যবহৃত হয় |
অধ্যাপক কং-এর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, পোষা প্রাণী—even অপ্রচলিত—গভীর আবেগীয় সমর্থন দিতে সক্ষম। তার গবেষণা নির্দেশ করে যে প্রাণীর মানব অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা এবং মানসিক চাপ কমানোর শক্তি কেবল প্রচলিত পোষা প্রাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সহমর্মিতা ও সংযোগের মূল্য মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিসীম।
