যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর উত্তরে ইরানও প্রস্তুতি নিচ্ছে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়েই তেহরান গোপনে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রাশিয়ার সঙ্গে একটি বড় মিসাইল চুক্তি সম্পন্ন করেছেন, যা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে মোট ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায়, আগামী তিন বছরে ইরান রাশিয়া থেকে নীচের মিসাইল সরবরাহ পাবে:
| ক্রমিক | অস্ত্রের ধরণ | পরিমাণ | সরবরাহের সময়কাল |
|---|---|---|---|
| ১ | ম্যান-পোর্টেবল ভার্বা লঞ্চ ইউনিট | ৫০০ ইউনিট | ৩ বছরের মধ্যে |
| ২ | ৯এম৩৩৬ ক্ষেপণাস্ত্র | ২৫০০টি | ৩ বছরের মধ্যে |
এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে ইরান ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাশিয়ার কাছে এই অস্ত্র কেনার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ওই সময়ই আমেরিকা ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এই হামলার প্রেক্ষিতে তেহরান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতা দৃঢ় করার জন্য মস্কোতে গোপন আলোচনা শুরু করে। এরপর ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা রাশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চুক্তি সই করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি ইরানের কৌশলগত ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। ম্যান-পোর্টেবল ভার্বা লঞ্চ ইউনিটগুলো দ্রুত মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চের সক্ষমতা দেবে, যা শহুরে এলাকায় প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্যদিকে ৯এম৩৩৬ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতা রাখে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুমাত্রিক করে তুলবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি আরও স্বনির্ভর এবং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ। সামরিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও দেখছেন।
ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান গোপনে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব দৃঢ় করছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যপ্রাচ্যীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
