ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আংশিক শিথিলতা বজায় রাখলেও পথটি এখনো পূর্ণভাবে উন্মুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ এই কৌশলগত নৌপথ ব্যবহার করছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথটি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেন, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে জাহাজ চলাচল কেবল ইরানের অনুমোদিত নির্দিষ্ট রুট ও শর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর নৌবাহিনী সম্প্রতি কিছু নতুন শর্ত আরোপ করেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে অগ্রিম অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড গত শুক্রবার ইরানের ২১টি জাহাজকে তাদের গন্তব্য বন্দরের দিকে অগ্রসর হতে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে নৌ-অবরোধের অবসান ঘটতে পারে।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। এরপর থেকে ধাপে ধাপে জাহাজ চলাচলের ওপর শর্ত আরোপ বাড়ানো হয়।
এছাড়া গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা লাভ করেছে।
নিচে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| তারিখ/সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে |
| পরবর্তী সময় | ইরান জাহাজ চলাচলে ধাপে ধাপে শর্ত আরোপ শুরু করে |
| গত সপ্তাহান্ত | ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয় |
| সাম্প্রতিক সময় | যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে |
| সাম্প্রতিক ঘোষণা | ইরান হরমুজ বন্ধের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে |
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
