কারাবন্দী পাকিস্তানের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী Imran Khan–এর স্বাস্থ্য ও কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন। বিশ্বের ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif–এর কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের জন্য ‘ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা, স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিটির খসড়া প্রস্তুত করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক Greg Chappell। তাঁর সঙ্গে স্বাক্ষর করেছেন ইয়ান চ্যাপেল, Sunil Gavaskar, মাইক ব্রিয়ারলি, Clive Lloyd, Kapil Dev, অ্যালান বোর্ডার, ডেভিড গাওয়ার, মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেইন, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজ ও বেলিন্ডা ক্লার্ক। রাজনৈতিক বিভাজন ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও তাঁদের এই সম্মিলিত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
চিঠিতে কী বলা হয়েছে
ক্রিকেটভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ESPNcricinfo–এ প্রকাশিত এক কলামে গ্রেগ চ্যাপেল লেখেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়; বরং মানবাধিকারের প্রশ্ন। তিনি ইমরান খানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে আরও গভীর করেছে। তাঁর ভাষায়, “ক্রিকেট আমাদের শিখিয়েছে ফেয়ার প্লে—এটি কেবল মাঠের নিয়ম নয়, জীবনেরও নীতি।”
চিঠিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো নিম্নরূপ—
| বিষয় | দাবির সারসংক্ষেপ |
|---|---|
| চিকিৎসা | পছন্দমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসা |
| পারিবারিক সাক্ষাৎ | নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ |
| আইনি প্রক্রিয়া | স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া |
| কারাবাসের পরিবেশ | মানবিক মানদণ্ড অনুসারে আবাসন |
কারাবাস ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান বর্তমানে একাধিক মামলার মুখোমুখি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে ১৮৬টিরও বেশি মামলা রয়েছে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় দীর্ঘ কারাবাস কার্যত আজীবন দণ্ডের শামিল বলে সমর্থকদের দাবি। বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টি হ্রাস, দাঁতের জটিলতা এবং সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁকে দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার ও নৈতিক দায়
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাধ্যমে ইমরান খান শুধু ক্রীড়া ইতিহাসেই নয়, জাতীয় চেতনাতেও এক বিশেষ স্থান অধিকার করেন। ট্রফি হাতে দেশব্যাপী সফর করে তিনি আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। গ্রেগ চ্যাপেল তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, ইমরান সাত বছরের রাজনৈতিক চক্রে বিশ্বাস করতেন এবং ধৈর্য ধরে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছিলেন।
সাবেক অধিনায়কদের মতে, ক্রিকেট কেবল রান-উইকেটের হিসাব নয়; এটি চরিত্র, ন্যায়বোধ ও পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক। তাঁদের যুক্তি—যে ব্যক্তি সারাজীবন ‘ফেয়ার প্লে’র কথা বলেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সেই নীতিরই প্রতিফলন ঘটানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
এই যৌথ আবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য নয়; বরং খেলাধুলার আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে উচ্চারিত এক সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।
ক্রিকেট বিশ্ব অপেক্ষা করছে—এই আবেদন কি পাকিস্তান সরকারের বিবেচনায় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেবে? কারণ, ক্রিকেট তার উত্তরাধিকারের কাছে এর চেয়ে কম কিছু প্রত্যাশা করে না।
