নিয়োগবঞ্চিত ৬৫০ এসআই ও সার্জেন্টের চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

দীর্ঘ দুই দশকের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুলিশের এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর) ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন প্রায় ৬৫০ জন প্রার্থী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি), ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০০৬ সালে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে নিয়োগবঞ্চিত হওয়া প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৬ সালে পুলিশের এসআই ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের জন্য এসব প্রার্থীর নাম চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত বা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী প্রার্থীরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালত তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আদালতের রায় অনুযায়ী এই প্রার্থীদের নিয়োগ সংক্রান্ত নথি বা ফাইল ইতিপূর্বে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। যদিও মাঝে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ফাইলটি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, তবে বর্তমানে সরকার তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রত্যেক প্রার্থীই যথাযথ ন্যায়বিচার পাবেন এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

নিচে পুলিশের বর্তমান নিয়োগ ও শূন্যপদ সংক্রান্ত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:

পদের নামসংখ্যা (প্রায়)বর্তমান অবস্থা
এসআই ও সার্জেন্ট (২০০৬ ব্যাচ)৬৫০ জনপুনর্বহাল ও নিয়োগের প্রক্রিয়াধীন
পুলিশ কনস্টেবল (সাধারণ)২৭০১ জনজরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশনা
আইনি ভিত্তিআদালতের রায়স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুপারিশকৃত
তদারকি সংস্থাস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে

পুলিশের সংস্কার ও নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা

বৈঠকে কেবল পুরনো নিয়োগই নয়, বরং পুলিশের জনবল সংকট দূর করতে নতুন নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে ২৭০১টি আসন শূন্য রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাঠ পর্যায়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই পদগুলোতে অতি দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশের ওপর রাজনৈতিক বা কোনো মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ আর বরদাশত করা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • পেশাদারিত্ব: পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

  • হস্তক্ষেপ রোধ: যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পুলিশের আইনি কাজে বাধা প্রদান করে বা অবৈধভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শৃঙ্খলার উন্নয়ন: বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উপসংহার

৬৫০ জন এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগ প্রাপ্তির এই ঘোষণা কেবল তাদের ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি বড় দৃষ্টান্ত। ২০ বছর ধরে যারা মেধার স্বাক্ষর রেখেও বঞ্চিত ছিলেন, তাদের এই পুনর্বহাল প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি একই সঙ্গে বাহিনীর ভেতরে সংস্কারের হাওয়া এবং বাইরে অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।