রাহুলকে হত্যা করার হুমকি, বিজেপি স্পিকারের অপমানের প্রতিশোধ দাবি তরুণের

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের কোটা জেলায় এক তরুণ রাহুল গান্ধীকে ‘বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রবিবার নয়, বরং বৃহস্পতিবার কোটা পুলিশ তাঁকে আটক করে, স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম রাজ সিং।

রাজ সিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তিনি রাহুল গান্ধীকে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভিডিওতে রাজ সিং নিজেকে ‘করণি সেনা’র কোটা জেলার মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেন এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে, বাজেট অধিবেশনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও ২৫ জন বিরোধী সদস্য যে অসম্মান করেছিলেন, তা রাহুলের নির্দেশেই হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ সিংয়ের পেছনের দেয়ালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্পিকার ওম বিড়লার ছবি ঝুলানো। তার গলায় গেরুয়া উত্তরীয় দেখা যায়। কোটা পুলিশের কর্মকর্তা তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার রাজ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার করণি সেনার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।

করণি সেনা রাজস্থানের উগ্র রাজপুত সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন, যা রাজপুত অধিকার, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদেরও বক্তব্য, রাজ সিং-এর সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে উল্লেখযোগ্য যে, সংসদের বাজেট অধিবেশনে রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী ও সরকারপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

রাজ্য ও সংসদীয় প্রেক্ষাপটের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরাজ সিং
স্থানকোটা, রাজস্থান
অভিযোগরাহুল গান্ধীকে হত্যার হুমকি
সংগঠন দাবিকরণি সেনা, কোটা জেলা মুখপাত্র
পুলিশি অবস্থানজিজ্ঞাসাবাদ চলছে, সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই
সামাজিক প্রতিক্রিয়াভিডিও ভাইরাল, তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ
বিজেপি ও করণি সেনা মন্তব্যদায় অস্বীকার

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কে বেণুগোপাল বলেন, “স্বঘোষিত ‘মোদিভক্তরা’ প্রকাশ্যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং রাহুল গান্ধীকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। শাসক দল নির্বিকার।” কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা আরও যোগ করেন, “আরএসএস–বিজেপির ইকোসিস্টেম দেশকে বিভাজিত করছে, ঘৃণার রাজনীতি চলছে।”

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশে এমন হুমকি ও উত্তেজনা নতুন নয়, তবে সংসদের ভেতরে এমন কার্যকলাপ সরাসরি গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।