মাহদী হাসান ফেরার পর বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ

হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহদী হাসানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ভারতের দিল্লি থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাহদী ঢাকায় অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরের পরিস্থিতি

মাহদী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কক্ষের দিকে এগোবার সময় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন এবং প্রয়োজনে আটকও করা হতে পারে।

মাহদী তার ফেসবুক লাইভে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন, “আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানাব। আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আমি আমার দেশের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে আমাকে দেশে পাঠানো হচ্ছে।”

মাহদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা

মাহদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করার পর তিনি থানায় গিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দেন। অভিযোগ অনুসারে মাহদী বলেছেন,

“বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছি।”

এই ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাহদী জামিনে মুক্তি পান।

বিদেশ যাত্রা ও ফেরার পর পরিস্থিতি

মাহদী ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দেশত্যাগ করেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হয়। এই ঘটনার পর তার আইনগত ও রাজনৈতিক অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। প্রশাসন তার জিজ্ঞাসাবাদ এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নজরে রাখছে।

মাহদীর সাম্প্রতিক ঘটনাপঞ্জি

তারিখঘটনাস্থানবিবরণ
১ জানুয়ারি ২০২৬তরুণ আটকশায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জএনামুল হাসান নয়নকে আটক করার পর মাহদীর হুমকি
২ জানুয়ারি ২০২৬গ্রেফতারশায়েস্তাগঞ্জ থানাপুলিশ হেফাজতে নেওয়া, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে মুক্তি
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বিদেশ যাত্রাঢাকা → ভারতত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দেশত্যাগ
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ফেরার পর জিজ্ঞাসাবাদহযরত শাহজালাল বিমানবন্দরপুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

বর্তমানে মাহদীর আইনগত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারি করছে, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে।