হাজারীবাগে সোহেল হত্যায় যাবজ্জীবন রায়

ঢাকার হাজারীবাগে ছয় বছর আগে সংঘটিত সোহেল হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) দায়রা আদালত তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফাহিম পাঠানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রায় দেন।

আদালতের সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান জানিয়েছেন, কেবল যাবজ্জীবনই নয়, প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আরও এক বছর কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার সময় ফাহিমকে আদালতে হাজির করা হয়; রায়ের পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিল্পী বেগম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের মধ্য বসিলা এলাকা থেকে সোহেলের ক্ষতচিহ্নযুক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে পুলিশের কাছে প্রকাশ পায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন শিল্পী বেগম, তার ছেলে সিজান মাহমুদ এবং ফাহিম পাঠান।

শিশু আদালতে চলমান মামলায় সিজান (১৭) শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আলাদা দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে।


ঘটনার ক্রম

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পী বেগম ও সোহেলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং অর্থ-চাকরির বিরোধ হত্যার মূল কারণ। অভিযোগে বলা হয়, সিজানকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে সোহেল তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিলেন। চাকরি না দেওয়ায় ও টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিকল্পনা মোতাবেক, ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী বেগম ও ফাহিম সোহেলকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে মাতাল অবস্থায় বেঁধে রেখে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর শিল্পী বেগম তার বোনের বাসায় চলে যান।


বিচার প্রক্রিয়া

২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালীন মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষিত হয়।


রায় সংক্রান্ত তথ্য সারসংক্ষেপ

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিসম্পর্কদণ্ডের ধরণঅর্থদণ্ডগ্রেপ্তারি অবস্থা
শিল্পী বেগমস্ত্রীযাবজ্জীবন১০,০০০ টাকাপলাতক, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ফাহিম পাঠানছেলে সিজানের বন্ধুযাবজ্জীবন১০,০০০ টাকাকারাগারে আটক

এই রায় বাংলাদেশে স্বামী-স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠজন জড়িত হত্যাকাণ্ডের বিচার হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এটি আদালতের কঠোর ন্যায়বিচারের প্রতিফলন এবং অনৈতিক অর্থ-সম্পর্কিত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।