ইউরোপের শ্রেষ্ঠ ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ–এ এবারের মৌসুমে কারা সবচেয়ে দ্রুতগতির ফুটবলার—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গবেষণা সংস্থা CIES ফুটবল অবজারভেটরি। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত পজিশনভিত্তিক এক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইউরোপীয় মঞ্চে দৌড়ে শীর্ষে থাকা তারকাদের নাম। তালিকায় আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আশরাফ হাকিমি, আবদুকোদির খুসানোভদের মতো পরিচিত মুখ।
প্রতিবেদনে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ স্প্রিন্টগতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ডিফেন্ডারদের মধ্যে দ্রুততম ম্যানচেস্টার সিটির উজবেক তারকা আবদুকোদির খুসানোভ। তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫.৮ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। আধুনিক ফুটবলে ডিফেন্ডারদের গতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
ফুলব্যাকদের তালিকায় আধিপত্য প্যারিস সেন্ট জার্মেইর। মরক্কোর ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি ঘণ্টায় ৩৬.৪ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে সবার ওপরে। তাঁর সতীর্থ নুনো মেন্দেজও পিছিয়ে নেই; ৩৬.১ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। দুই প্রান্তরক্ষকের এই গতি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়।
মিডফিল্ডে দ্রুততম টটেনহামের আর্চি গ্রে। তাঁর সর্বোচ্চ গতি ৩৪.৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। উইঙ্গারদের মধ্যে নিউক্যাসলের অ্যান্থনি গর্ডন ঘণ্টায় ৩৭.৯ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে পুরো তালিকার অন্যতম দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
সেন্টার ফরোয়ার্ডদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর সর্বোচ্চ গতি ৩৫.৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আক্রমণভাগে গতির সঙ্গে নিখুঁত ফিনিশিং—এই সমন্বয়ই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
নিচে পজিশনভিত্তিক দ্রুততম খেলোয়াড়দের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| পজিশন | খেলোয়াড় | ক্লাব | সর্বোচ্চ গতি (কিমি/ঘণ্টা) |
|---|---|---|---|
| ডিফেন্ডার | আবদুকোদির খুসানোভ | ম্যানচেস্টার সিটি | ৩৫.৮ |
| ফুলব্যাক | আশরাফ হাকিমি | পিএসজি | ৩৬.৪ |
| ফুলব্যাক | নুনো মেন্দেজ | পিএসজি | ৩৬.১ |
| মিডফিল্ডার | আর্চি গ্রে | টটেনহাম | ৩৪.৮ |
| উইঙ্গার | অ্যান্থনি গর্ডন | নিউক্যাসল | ৩৭.৯ |
| সেন্টার ফরোয়ার্ড | কিলিয়ান এমবাপ্পে | রিয়াল মাদ্রিদ | ৩৫.৭ |
প্রতিবেদনে শুধু সর্বোচ্চ গতি নয়, ম্যাচে বিভিন্ন গতির পরিসংখ্যানও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ১০০ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজন সেন্টার ফরোয়ার্ড সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছেন ধীরগতিতে (ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটারের কম)। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে এমবাপ্পে—মোট দূরত্বের ৪৩.৫ শতাংশ তিনি এই গতিতে হেঁটেছেন। এরপর আছেন নাপোলির ভিক্টর ওসিমেন (৪১.৯ শতাংশ) ও স্পোর্টিং লিসবনের লুইস সুয়ারেজ (৪০.১ শতাংশ)।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম হাঁটার তালিকায় তিনজন সেন্টার মিডফিল্ডার। বোডো/গ্লিমটের হ্যাকন এভজেন (২৩%), স্পোর্টিং লিসবনের জোয়াও সিমোয়েস (২৪.১%) এবং টটেনহামের লুকাস বার্গভাল (২৫.২%) ম্যাচে তুলনামূলক বেশি সময় দৌড়ে খেলেছেন।
এই পরিসংখ্যান আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তিত বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। এখন কৌশল, বলদখল বা পাসিং দক্ষতার পাশাপাশি গতি একটি বড় অস্ত্র। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে তাই শারীরিক সক্ষমতা ও গতির সমন্বয়ই হয়ে উঠছে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি।
