ত্রয়োদশ সংসদের শপথের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করে নিতে নতুন সাজে সেজে উঠছে। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই. কান–এর নকশায় নির্মিত এই স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন শুধু বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রই নয়, আধুনিক স্থাপত্যকলার এক অনবদ্য উদাহরণ হিসেবেও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুকে সামনে রেখে ভবন ও প্রাঙ্গণে চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যায়ন, সংস্কার ও কারিগরি প্রস্তুতি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুসারেই নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে। দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত বা ফলাফল অনিষ্পন্ন থাকায় সেগুলোর গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি।

দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, পর্যাপ্ত আসনব্যবস্থা, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে সদস্যদের কার্যালয়সমূহে রং-রোগান ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ চলছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে জানান, একই দিনে বিকাল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানও দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা বাকি ১১টি আসনে জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

দল/জোটপ্রাপ্ত আসনঅবস্থান
বিএনপি২০৯সরকার গঠন
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট৭৭বিরোধী দল
স্বতন্ত্র ও অন্যান্য১১স্বতন্ত্র

বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, ফলে নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে তাদের ভূমিকা হবে নির্ধারক। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদীয় বিতর্ক ও জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ ভবন আবারও এক গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে—নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।