বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দনের পাশাপাশি আগাম রমজান মোবারক জানান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত বার্তায় মমতা লিখেছেন, “বাংলাদেশের সব ভাইবোনকে ও জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন। আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে এবং অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও সুদৃঢ় থাকবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
সরকারি ফলাফলে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ বিজয়কে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পৃথক এক বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুস্পষ্ট জয়ের পথে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” মোদি মন্তব্য করেন, এ ফলাফল বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন। পাশাপাশি তিনি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বহুমাত্রিক ও কৌশলগত। বাণিজ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়—সবক্ষেত্রেই দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাৎক্ষণিক শুভেচ্ছা বার্তাকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতার ইতিবাচক সংকেত হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ সহজতর করার মাধ্যমে আগামী দিনে সম্পর্ক আরও গভীর হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে উভয় পক্ষ থেকেই।
নিম্নে প্রাপ্ত প্রধান শুভেচ্ছা বার্তাগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| প্রেরক | পদবি | মূল বার্তার বিষয়বস্তু | ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা |
|---|---|---|---|
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ | তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন; জনগণকে অভিনন্দন ও রমজান শুভেচ্ছা | ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখা |
| নরেন্দ্র মোদি | প্রধানমন্ত্রী, ভারত | নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন; গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি | দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্রুত শুভেচ্ছা বার্তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করে তুলবে—এমন আশাবাদই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।
