নওগাঁ সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার আগে ফলাফলপত্র স্বাক্ষর ও সীল মেরে বিতর্কিত কাজ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার সময় আনুমানিক দুপুর ১২টা।
প্রতিবাদে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন, যিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসাবেও দায়িত্বে আছেন, তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করেন, যা ঘটেছে দুপুর ১টার দিকে।
নির্বাচনী সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে নাজিম উদ্দিন ফলাফলপত্রে তার স্বাক্ষর, অফিসিয়াল সীল এবং পদবী প্রদর্শন করেছেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ফলাফলপত্র শুধুমাত্র ভোট গণনার পর এবং ভোটকেন্দ্রের ভোট প্রক্রিয়া তদারককারী এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্বাক্ষর ও সীল করা যেতে পারে। সময়ের আগে স্বাক্ষর করা নির্বাচনী শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত ফড়কদারির প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ঘটনার পর নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, “ভোটগ্রহণের পর ফলাফল প্রস্তুত করতে প্রচুর সময় লাগে। আমি সুবিধার্থে সময় বাঁচাতে আগে স্বাক্ষর দিয়েছিলাম, কিন্তু জানতাম না যে এটি নির্বাচনী বিধির উলঙ্ঘন।”
ইউএনও মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন এ বিষয়ে বলেন, “ফলাফল গণনার আগে স্বাক্ষরের কোনো বিধান নেই। এটি একটি স্পষ্ট প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন। অভিযোগ যাচাইয়ের পর কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রটিতে নতুন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।”
ঘটনার মূল তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ সদর উপজেলা |
| তারিখ ও সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১২টা |
| কর্মকর্তার নাম ও পদ | নাজিম উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী |
| দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার | ১২ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১টা, ইউএনও মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন কর্তৃক |
| অভিযোগ | ভোট গণনার আগে ফলাফলপত্রে স্বাক্ষর ও সীল করা |
| পরিবর্তন | নতুন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিযুক্ত |
এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিধি অনুসরণের গুরুত্ব পুনরায় উজ্জ্বলভাবে প্রমাণিত হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, ভোটকেন্দ্র পর্যায়ে কঠোর তদারকি ছাড়া কোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং এর মাধ্যমে জনগণের ভোটপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করা যায়।
